"৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,,
মুভি রিভিউঃ
"৯৬"
(হাসি-কান্না, ভালবাসা আর নস্টালজিয়ার এক অসাধারণ গল্প)
সিনেমার হিরো মানেই সুদর্শন নায়কের একটি ছবি- এরকমই আমরা কল্পনা করে থাকি। কিন্তু "৯৬" মুভিটির নায়ক বিজয় সেতুপতিকে খুবই সাধারণত চেহারায় দেখানো হয়েছে।
সিনেমাতে বিজয় সেতুপতির নাম "রামাচান্দ্রান"। সে একজন ট্রাভেল ফটোগ্রাফার। ২২ বছর পর জন্মস্থানে গিয়ে নিজের ফেলে আসা শৈশবটাকেই যেন ফিরে পেলেন; পুরোনো বাসস্ট্যান্ড- যেখানে বিয়ের পর প্রথম তার বাবা-মা নেমেছিলেন, হাসপাতাল- যেখানে তিনি জন্মেছেন, শহরের প্রথম শপিং কমপ্লেক্স... ইত্যাদি।
সবকিছুর মধ্যে যেন আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাধ্যমিক স্কুলটা! কতই না স্মৃতি ছড়িয়ে আছে এখানটায়!
রামাচান্দ্রান পুরাতন বন্ধুদের দু-একজনকে ফোন দেয়। প্রত্যেকেরই ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় স্কুলের সেইদিনগুলো, সেইসব বন্ধুদের...
এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৯৯৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী কয়েকজন ছেলে-মেয়ে মিলে রিইউনিয়নের আয়োজন করে; যেখানে তারা সবাই আবার একত্রিত হয়। গল্পের প্রধান চরিত্রে থাকা রামাচান্দ্রান আর নায়িকা জানুর ২২ বছর পর দেখা হয় আবার সেই রিইউনিয়নে। সিনেমার গল্পে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আর ২২ বছরে তাদের জমে থাকা প্রশ্ন উত্তরের আবর্তে চলতে থাকে সিনেমার রানটাইম, যেখানে তারা আবার অনুভব করে ২২ বছর আগের কিশোর বয়সের ভালোবাসা!
আপনি হয়তো ৯৬ ব্যাচের কেউ না, রাম-জানুর মতো কোনো গল্প আপনার নেই, তবুও এই আপনিই কি করে যে এই গল্পের ভিতরে ঢুকে যাবেন, বুঝতেই পারবেন না। স্কুল দিনের স্মৃতি - ভালোবাসা - হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা - আবার ফিরে পাওয়া অথবা আবার হারিয়ে ফেলা... ৯৬ - এমনই একটা গল্প! যা আপনাকে কখনো হাঁসাবে, কখনো কাঁদাবে, আবার কখনো নস্টালজিক করে তুলবে।
ধৈর্য সহকারে সিনেমাটির প্রথম ২১ মিনিট দেখুন। এরপর বাকিটা ইতিহাস,,,,। মোট ২ ঘন্টা ৮ মিনিটের সিনেমায় স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। আমি আশাবাদী, এই সিনেমাটি আপনার দেখা ও ভালোলাগা সিনেমার প্রথম ৫ টির একটি হবেই।
কমেন্টে সিনেমাটির লিংক দিলাম


