রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

 "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,,


মুভি রিভিউঃ
"৯৬" 


(হাসি-কান্না, ভালবাসা আর নস্টালজিয়ার এক অসাধারণ গল্প)

সিনেমার হিরো মানেই সুদর্শন নায়কের একটি ছবি- এরকমই আমরা কল্পনা করে থাকি। কিন্তু "৯৬" মুভিটির নায়ক বিজয় সেতুপতিকে খুবই সাধারণত চেহারায় দেখানো হয়েছে।

সিনেমাতে বিজয় সেতুপতির নাম "রামাচান্দ্রান"। সে একজন ট্রাভেল ফটোগ্রাফার। ২২ বছর পর জন্মস্থানে গিয়ে নিজের ফেলে আসা শৈশবটাকেই যেন ফিরে পেলেন; পুরোনো বাসস্ট্যান্ড- যেখানে বিয়ের পর প্রথম তার বাবা-মা নেমেছিলেন, হাসপাতাল- যেখানে তিনি জন্মেছেন, শহরের প্রথম শপিং কমপ্লেক্স... ইত্যাদি।
সবকিছুর মধ্যে যেন আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাধ্যমিক স্কুলটা! কতই না স্মৃতি ছড়িয়ে আছে এখানটায়!
রামাচান্দ্রান পুরাতন বন্ধুদের দু-একজনকে ফোন দেয়। প্রত্যেকেরই ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় স্কুলের সেইদিনগুলো, সেইসব বন্ধুদের...
এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৯৯৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী কয়েকজন ছেলে-মেয়ে মিলে রিইউনিয়নের আয়োজন করে; যেখানে তারা সবাই আবার একত্রিত হয়। গল্পের প্রধান চরিত্রে থাকা রামাচান্দ্রান আর নায়িকা জানুর ২২ বছর পর দেখা হয় আবার সেই রিইউনিয়নে। সিনেমার গল্পে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আর ২২ বছরে তাদের জমে থাকা প্রশ্ন উত্তরের আবর্তে চলতে থাকে সিনেমার রানটাইম, যেখানে তারা আবার অনুভব করে ২২ বছর আগের কিশোর বয়সের ভালোবাসা!

আপনি হয়তো ৯৬ ব্যাচের কেউ না, রাম-জানুর মতো কোনো গল্প আপনার নেই, তবুও এই আপনিই কি করে যে এই গল্পের ভিতরে ঢুকে যাবেন, বুঝতেই পারবেন না। স্কুল দিনের স্মৃতি - ভালোবাসা - হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা - আবার ফিরে পাওয়া অথবা আবার হারিয়ে ফেলা... ৯৬ - এমনই একটা গল্প! যা আপনাকে কখনো হাঁসাবে, কখনো কাঁদাবে, আবার কখনো নস্টালজিক করে তুলবে।
ধৈর্য সহকারে সিনেমাটির প্রথম ২১ মিনিট দেখুন। এরপর বাকিটা ইতিহাস,,,,। মোট ২ ঘন্টা ৮ মিনিটের সিনেমায় স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। আমি আশাবাদী, এই সিনেমাটি আপনার দেখা ও ভালোলাগা সিনেমার প্রথম ৫ টির একটি হবেই।

কমেন্টে সিনেমাটির লিংক দিলাম 

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

অতি বড় বীর আসামী

#আইন_সাহিত্য 


অতি বড় বীর টাইপের এক আসামীর গল্প বলছি আজঃ

,

২০১১ সালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে রফিক নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায় খালের পানির মধ্যে। পরের দিন মৃত রফিকের বৌ থানায় মামলা করেন। বাদী অর্থাৎ মৃত রফিকের বৌ তার মামলার এজাহারে আসামী হিসাবে কোনো ব্যক্তির নামই উল্লেখ করতে পারেন না। অজ্ঞাতনামা লোকেরা তার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে তিনি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ তিনজন বন্ধু রাজু, তপন ও সবুজকে এরেস্ট করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়। এই তিনজন বন্ধুর মধ্যে রাজু নামের বন্ধুটি রিমান্ডের ধাক্কায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করে তাদের অন্য একজন বন্ধু; যার নাম জাফরউল্লাহ কালা; সে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে রফিককে হত্যা করেছে। আর হত্যার পর রাজু, তপন ও সবুজরা মিলে রফিকের মৃতদেহ পানির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। রাজুর এই স্বীকারোক্তিতে জাফরউল্লাহ কালা কর্তৃক রফিককে হত্যার তেমন কোনো উদ্দেশ্য বা মোটিভ পাওয়া যায় না।


তারপর স্বাভাবিক নিয়মমাফিক জাফরউল্লাহ কালা গ্রেফতার হয়। রাজু, তপন, সবুজ ও জাফরউল্লাহ কালাকে হাজতে আটক রাখা হয়। বছরখানেক হাজতবাসের পর চারজনই জামিনে বের হয়।  জামিন পেয়েই রাজু পালায় এবং এখন পর্যন্ত সে পলাতক। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচার চলে। মৃত রফিকের বৌ ও মা সহ ৯ জন সাক্ষী এই মামলাটিতে সাক্ষ্য দেয়। সাক্ষীর সময় প্রত্যেক সাক্ষীই বলেন যে, কে হত্যা করছে- সেই সম্পর্কে তারা কিছু বলতে পারবে না, তাদের কোনো ধারনা নেই। 

অবশেষে গত ১৮/১০/২৩ তারিখে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য তারিখ নির্ধারণ হয়। সকল আসামী ও তাদের পরিবার ভেবেছিল, রাজুর স্বীকারোক্তি ছাড়া আসামীদের বিরুদ্ধে আর কোনো এভিডেন্স নেই। আর রাজুও এগারো বছর যাবত পলাতক। অন্য তিনজন আসামী আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হয়েছে। অতএব, আশা করাই যায় যে, তারা তিনজন এই মামলা থেকে খালাস পাবে। 

নির্ধারিত তারিখে রায় শোনার জন্য আসামীরা আদালতে উপস্থিত হয়। অতঃপর রায়ে একমাত্র এভিডেন্স হিসেবে আসামী রাজুর দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিজ্ঞ জজ সাহেব রাজু (পলাতক), তপন ও সবুজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৩০ বছর) আর জাফরউল্লাহ কালাকে ফাঁসির আদেশ দেয়। তক্ষুনি আসামীদের আটক করে পুনরায় জেলে পাঠানো হয়।


আমার বলা গল্পটা শুরু এখান থেকে,,,,,, 


জাফরউল্লাহ কালার ফাঁসির আদেশের খবর শুনে তার পরিবার তো বিশাল কান্নাকাটি শুরু করে।  আমাকে হাইকোর্টে আপীল করার রিকোয়েস্ট করে ফোন দেয়। 

এখানে উল্লেখ্য, ফাঁসির আসামীর জন্য আপীল করতে হয় রায় ঘোষণার ৭দিনের মধ্যে। অবশ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা জাফরউল্লাহ কালার পরিবার বাংলা সিনেমা ও মিডিয়ার কল্যাণে জানে। তারা আমাকে আপীলের জন্য বারবার তাগাদা দিতে থাকে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করে দ্রুত রায়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করি আর আসামীর কাছে ওকালতনামা পাঠাই ওকালতনামায় আসামীর সিগনেচারের জন্য। কিন্তু বারবারই জাফরউল্লাহ কালার সিগনেচার বিহীন ওকালতনামা ফেরত আসতে লাগলো। 

বুঝতে পারছি না ঘটনা কি!!! এদিকে সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। জাফরউল্লাহ কালার পরিবার উদ্বিগ্ন, আমরা আইনজীবীরা উদ্বিগ্ন। কিন্তু জাফরউল্লাহ কালা কিছুতেই ওকালতনামায় সিগনেচার করছে না।


ঠিক সেই সময় জাফরউল্লাহ কালা জেলখানা থেকে একটা ফোন দিয়ে জানালো, "এত অস্থির হবার কিছু নেই। ফাঁসি দেওয়া কি এতই সহজ!! ফাঁসি দিতে অনেক সময় লাগে। অতএব, এখন চুপচাপ থাকো। যখন আমাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য আসবে, তখন আপীল করবো, তখন  ওকালতনামায় সিগনেচার করবো। তোমরা ভয় পেয়ো না। এত অস্থির হয়ো না।"


,,,,,,,অবস্থা বোঝেন, কততো বড় বীর আসামী!!! 


#লেখা

#adv_tonima_jahida

,

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩

ভোকাট্টা

ছেলেটির নাম রোকনুজ্জামান কল্লোল। আজকের গল্প এই কল্লোলকে নিয়ে।

কল্লোল সবেমাত্র বিসিএস ক্যাডারের কাস্টমস অফিসার হয়েছে। বুনিয়াদি ট্রেনিং শেষে ঢাকায় নতুন পোস্টিং। অফিসের ক্লার্ক ছেলেটির সাহায্যে দুদিনের মধ্যে একটি ছোট ফ্লাটও ভাড়া নিয়েছে কল্লোল। আর একটু গোছাতে পারলেই গ্রাম থেকে মাকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সে। কল্লোল নিজেই কোনরকম হাত পুড়িয়ে একবেলা রান্না করে। এছাড়া পাশের ফ্লাটের তাহেরা আন্টির কল্যাণে খাবারের কষ্ট নাই কল্লোলের। ১৪ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে রিমিকে নিয়ে তাহেরার সংসার। স্বামী চিটাগং নাকি কিসের ব্যবসা করে। তাহেরা আন্টি বেশ আন্তরিক। ১০/১২ দিনের মধ্যেই আন্টি ও আন্টির একমাত্র মেয়ে রিমির সাথে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হলো। বাসায় তিন/চার পদ যা রান্না হয়, তাই আন্টি ট্রে সাজিয়ে কল্লোলের জন্য নিয়ে আসে। তাহেরাকে আন্টি ডাকার চেয়ে আপু ডাকতে ইজি মনে হয় কল্লোলের। মহিলার বয়স বোঝা যায় না। ৩২/৩৩ বছর বলে মনে হয়। তার উপর মারাত্মক সুন্দরী। তাহেরাই কল্লোলকে "আন্টি" বলে ডাকতে বলেছে। যাই হোক, আপু বা আন্টি একটা হলেই চলে কল্লোলের। তাহেরা সকালের নাস্তা, বিকেলে চা, রান্না করা বিভিন্ন তরকারি, ভর্তা পাঠাতেই থাকে । প্রথমে তাহেরা নিজেই ট্রে সাজিয়ে খাবার দিয়ে যেতো । পরে রিমি নিয়ে আসতো।
রিমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মায়ের সবটুকু সৌন্দর্য পেয়েছে রিমি। রিমি সামনে আসলেই মনে হয় একটা জীবন্ত গোলাপ দাঁড়িয়ে আছে। এই জীবন্ত গোলাপের দিকে তাকালে কেমন যেন মনে শান্তি শান্তি লাগে।

কয়েকদিন পরেই তাহেরা কল্লোলকে রিকোয়েষ্ট করলো - সে যেন রিমিকে একটু অংক শেখায়। রিমি অংকে খুব কাঁচা।
সত্যিই রিমি অংকে খুবই কাঁচা। মাথায় অংক কিচ্ছু ঢুকে না। স্কুলের স্যারের কাছে অন্য মেয়েদের সাথে ব্যাচে অংকের কোচিং করে। কিন্তু কি সব পাটিগণিত, বীজগণিত, ত্রিকোনমিতি আর ছাতার জ্যামিতি স্যার শেখায়, যা তার মাথার উপর দিয়ে যায়।
কল্লেল রাজি হয়। কখনো  রিমিদের বাসার ডাইনিং টেবিলে, আবার কখনো রিমির পড়ার  টেবিলে চলে অংক শেখা।
প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যায় কল্লোল রিমিকে অংক শেখাতে যায়। তাহেরা আদর করে কল্লোলকে বিভিন্ন ধরনের নাস্তা খাওয়ায়। তবে বেশিরভাগ সন্ধ্যাতে তাহেরা বাসায় থাকে না। বিভিন্ন কাজে সে বাইরে যায়।
এদিকে কল্লোল রিমিকে পাটিগণিত অংক শেখানোর সাথে ভালোবাসাও শেখাতে থাকে। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া রিমি বুঝতে পারে তার মা কল্ললকে খুবই পছন্দ করেছে। অতএব মায়ের প্রশ্রয় ও আগ্রহের কারনে রিমি কল্লোলের মাঝে হারিয়ে যেতে থাকে। এই প্রেম যখন অবাধ মেলামেশার পিচ্ছিল পথে দিশেহারা, তখন একদিন রাতে বাসায় ফিরেই তাহেরা কল্লোলকে বলে, তোমাকে অনেক ভরসা করে রিমিকে অংক শেখাতে দিয়েছিলাম আর তুমি কিনা রিমির সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ালে! শুধু যদি ভালোবাসতে তাও মেনে নিতাম। তুমি আমার কিশোরী মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করেছো!!
ঘটনা সত্যি। কল্লোল মাথা নিচু করে আছে। তাহেরা বললেন, "তুমি আজই রিমিকে বিয়ে করবা"।

কল্লোলের মাথা ঘুরছে। সেও রিমিকে ভালোবাসে। তবে এইভাবে হঠাৎ করে নিজের মায়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কল্লোল বলল, ' আমার পক্ষে এইভাবে এই বিয়ে করা সম্ভব নয়। আমার সময় লাগবে।'
ঘটনার বিহ্বলতায় রিমি আবেগপ্রবন হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলো। কল্লোল তার প্রথম প্রেম। কল্লোলকে ভালোবেসে সে তার সবকিছু দিয়েছে। এখন কল্লোল যদি তাকে বিয়ে না করে, কল্লোলের মা যদি রাজি না হয়, তবে সে মরেই যাবে।

তাহেরার অনেক রাগারাগি, অনেক হুমকিতেও কোন কাজ হলো না। কল্লোল তার সিদ্ধান্তে অটল।
কোনোকিছুতেই কল্লোলের মন নরম হলো না।  রেগেমেগে ও বিরক্ত হয়ে একমাস সময় লাগবে বলে সে রিমিদের ফ্লাট হতে চলে আসলো।

রিমি কাঁদতে কাঁদতে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। তাহেরা মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল, কল্লোলের মা বিয়েতে রাজি না হলে হয়তো কল্লোল তোমাকে বিয়ে করবে না। তাই রিমি সোনা তুমি যদি কল্লোলকে বিয়ে করতে চাও, নিজের করে পেতে চাও, তবে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। তাহলেই কল্লোল তোমার হবে। তুমি কি করবে সেই কাজ??
কল্লোলকে পাবার জন্য রিমি সবকিছু করতে পারে। কল্লোলকে সে সত্যি সত্যি অনেক ভালোবাসে।
তাহেরা তখন বলল, তুমি এক্ষুনি আমার সাথে থানায় যাবে আর পুলিশের কাছে বলবে কল্লোল তোমার সাথে কি কি করেছে,,,

তাহেরা এলাকার ক্ষমতাধর তিনজন লোক নিয়ে থানায় গেলো। যেহেতু রিমি নাবালিকা, তাই তাহেরা নিজে বাদী হয়ে কল্লোলের বিরুদ্ধে রিমিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করলো।
এরপর বাকিটা ইতিহাস,,,
রিমির মেডিকেল হলো। রিমির জবানবন্দি নেয়া হলো। জবানবন্দিতে রিমি বলল, কল্লোল তাকে জোর করে কিছু করে নাই বা ধর্ষণ করে নাই। তাদের মধ্যে যা হয়েছে সবকিছু ভালবেসে হয়েছে। 
এক্ষেত্রে রিমির বয়স যেহেতু কম, সেহেতু রিমির সাথে যা হয়েছে তা আইনে ধর্ষণ হিসাবেই বিবেচিত হবে। যতই তাতে রিমির মতামত থাকুক বা না থাকুক। এটা ধর্ষণই।

রাত চারটার সময় পুলিশ কল্লোলের দরজায় কড়া নাড়লো। দরজা খুলেই কল্লোল বুঝলো তাহেরার বিছানো ফাঁদে সে ধরা পড়ে গেছে।
পাশের ফ্লাট থেকে তাহেরা এবং তিন/চার জন লোক বের হয়ে এলো।
পুলিশ তো কল্লোলকে এরেস্ট করে নিয়ে যাবে। কল্লোল ভয় পেয়ে গেলো। তার নতুন চাকরি। জানাজানি হলে সে অবধারিত ভাবে  সাসপেন্ড হবে। কল্লোলের সাথে কথাবার্তা বলে এক পর্যায়ে তাহেরাই পুলিশকে আশ্বস্ত করে জানালে যে, "আগামীকাল সকালেই কল্লোল কোর্টে গিয়ে সারেন্ডার করে জামিন নিবে। আর জিম্মাদার হবে তাহেরা। তবে তার আগেই কল্লোল রিমিকে বিয়ে করবে। অতএব পুলিশ অফিসারা যেন একটা দিন সময় তাদের দেয়"। এভাবেই আপাতত পুলিশকে ম্যানেজ করা হলো।
নিরুপায় কল্লোল সব মেনে নিলো।
এরপর পুলিশ বিদায় নিতে নিতে সকাল ৭টা। কিছুক্ষন পর বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী এলো। বিয়ে পড়ানোর সময় তাহেরা বলে দিল, দেনমোহর হবে ৫০ লক্ষ টাকা। কল্লোল একটু আপত্তি করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাহেরার কঠিন সিদ্ধান্তে তা চাপা পড়ে গেলো।
যাই হোক, ৫০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কল্লোল আর রিমির বিয়ে হয়ে গেলো। বিয়ের সময় কল্লোল আর রিমি দুজন দুই রুমে ছিল আর বিয়ের একটু পরেই তাহেরা কল্লোলকে নিয়ে দ্রুত রওনা দিল কোর্টের উদ্দেশ্যে। তাই বিয়ের পর রিমির সাথে  কল্লোলের আর দেখা হলো না।
রিমি কল্লোলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো,,,

ঐদিনই সকাল ১০ টার সময় কোর্টে গিয়ে তাহেরা কল্লোলের জামিন করালো। জামিনের পর তাহেরা কল্লোলকে আর খুঁজে পায় নাই।

ছয় বছর সময় চলে গেছে। মামলাটি এখনোও চলমান। রিমি অনার্সে পড়ে। প্রতি মাসে কল্লোলের পক্ষ থেকে কেউ একজন রিমির নামে মানি ওর্ডার করে। তবে কল্লোল আর কখনোই রিমির সাথে কোন যোগাযোগ করে নাই। তাহেরাই বহুত ঝই-ঝামেলা করে কল্লোলের সাথে যোগাযোগ করতো। কল্লোল পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিল, তাহেরা ও রিমির সাথে সে কোন সম্পর্ক রাখতে চায় না। তাহেরা কল্লোলের গ্রমের বাড়িতেও যায়। কিন্তু তেমন লাভ হয় না।
রিমিই কল্লোলকে কান্নাকাটি করে ফোন দিত, ম্যাসেজ দিত। কিন্তু কল্লোলের দিক থেকে ছিল নিরবতা।
রিমি বুঝে গিয়েছিল মায়ের কথামতো পুলিশের কাছে গিয়ে সে কল্লোলকে রাগিয়ে দিয়েছে। কল্লোলের সম্মানহানী হয়েছে। হারিয়ে ফেলেছে কল্লোলকে। রিমি নিজের মাকে রিকোয়েস্ট করতে লাগলো মামলা তুলে ফেলে কল্লোলকে মুক্তি দেয়ার জন্য।
কিন্তু তাহেরা তাতে গলবার পাত্র নয়। মামলা সে তুলবে না। রিমির কান্নাকাটি এবং পাগলাামীতে অতিষ্ঠ হয়ে তাহেরা আইনজীবীর মাধ্যমে বলল, আমি মামলা তুলবো, কল্লোল যেন দেনমোহরের ৫০ লক্ষ টাকা আগে দিয়ে দেয়।
কল্লোল রাজি হলো।
আজ সেই দিন। আজ তাহেরা আদালতে সাক্ষীর মাধ্যমে মামলা শেষ করেছে। তারপর আইনজীবী হিসাবে আমার চেম্বারে খোলা তালাক ও ৫০ লক্ষ টাকা বুঝে পাবার মাধ্যমে এই অসম্পূর্ণ সম্পর্কের অবসান হবে।
রিমি ভেতরের রুমে বসে আছে। অন্য রুমে বসে কল্লোল ও কল্লোলের পক্ষের লোকেরা তাহেরার হাতে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা বুঝায়ে দিয়েছে। কাজী সাহেবও উপস্থিত আছেন খোলা তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাতে।
আমি রিমিকে ডাকতে গিয়ে দেখি রিমি খুব কাঁদছে। ওর মাথায় হাত রাখতেই রিমি বড়বড় চোখ ভর্তি পানি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "সিগনেচারের আগে কল্লোল যেন তাকে পাঁচ মিনিট সময় দেয়।"
আমি অবাক হয়ে বললাম, এ আবার কেমন আবদার! কিন্তু রিমি নাছোরবান্দা। বাধ্য হয়ে কল্লোলকে বললাম, রিমি আপনাকে একা কিছু বলবে, তারপর ডিভোর্সে সিগনেচার করবে।
প্রথমে কল্লোল ভয় পেয়ে এবং বিরক্ত হয়ে আপত্তি করলো। তাহেরাও আপত্তি করলো।
আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করে বললাম, "আমি থাকবো সাথে, ভয় পাবার কিছু নেই। একটু পরেই তো চিরকালের মত সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। মেয়েটা কি বলতে চায় শুনলে তেমন ক্ষতি হবে না আশা করি।"
অবশেষে কল্লোল রিমির সাথে কথা বলতে রাজি হলো। চেম্বারের আর সবাই বাইরে বের হয়ে গেল।
কল্লোলকে ভেতরের রুমে রিমির কাছে নিয়ে গেলাম। রিমি বসেছিলো। কল্ললকে দেখে উঠে দাড়ালো। সালাম দিল।
কল্লোল কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করলো, 'ছয় বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন শেষ হবার পথে,,, এই শেষ সময়ে পাঁচ মিনিট সময় দিয়ে কি করবা!'
ধরা গলায় রিমি বলল, "আপনার সাথে আমার সব স্মৃতিই ছোট বয়সের, বিয়ের আগের- যখন আপনি আমার হাসবেন্ড ছিলেন না। বিয়ের পর আপনাকে আমি এক মূহুর্তের জন্যও দেখি নাই। কোনো কথা বলতে পারি নাই। তাই হাসবেন্ড হিসাবে আপনার সাথে আমার কোন স্মৃতি নাই। আজকের এই পরিস্থিতির জন্য হয়তো আমরা প্রত্যেকেই দায়ী। আপনি যদি আমাকে নিয়ে সংসার করতেন, ভালোবাসতেন তবে বিয়ের আগের ঐসব ভালোবাসার স্মৃতি অনেক সুন্দর মনে হতো। কিন্তু আপনি তো আমাকে মেনেই নেন নাই। তাই ওগুলোকে নোংরা মনে হয়। এত্তো
কিছুর পরও আপনি তো আমার হাসবেন্ড, ডিভোর্স হলেও আপনি আমার হাসবেন্ড। আমি  আমার হাসবেন্ডকে নিয়ে ভালো কোন স্মৃতি রাখতে চাই, আপনাকে কাছ থেকে দেখতে চাই। এক টেবিলে বসে দুজনে একবার চা খেতে চাই,,,

আমার কেন যেন মনে হলো- কল্লোলের কঠিন মুখটা খানিকটা নরম, কোমল, আর কেমন যেন দিশেহারা দেখাচ্ছে।
কল্লোলকে রিমির পাশে রেখে আমি বাইরে বের হয়ে এলাম। জানি, সম্ভব না। তাও মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগলাম, হে বিধাতা, কোনো ম্যাজিক করো। এই আল্প বয়সী মেয়েটি যেন কল্লোলকে নিয়ে পাঁচ মিনিট নয়, পঞ্চাশ বছরের সুন্দর স্মৃতি নিয়ে বাঁচে। ম্যাজিক করো বিধাতা। ম্যাজিক করো,,,

শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

প্রেমেরো জোয়ারে, ভাসাবো দোঁহারে,বাঁধন খুলে দাও, দাও দাও দাও

 নুরুল্লাহ ভাই আমার অনেক দিনের পুরাতন ক্লায়েন্ট। নুরুল্লাহ ভায়ের  নিজের মামলা এবং তার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মামলা আমি নিয়মিত পরিচালনা করে থাকি। সেই সূত্রে নুরুল্লাহ ভাই ও তার পরিবারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। আস্থার সম্পর্ক।

গত ছয় মাস আগে নুরুল্লাহ ভাইয়ের
ছোট বোন শারমিনের বিয়ে হয়। এই বিয়েতে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। তা হলো, নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোটবেলার অত্যন্ত কাছের বন্ধু শোভনের সাথে নুরুল্লাহ ভাইয়ের আপন ছোট বোন শারমিনের বিয়ে। উনি বলেন, শারমিন এবং শোভনের বয়সের ডিফারেন্স  ৮ বছর তাই প্রথমে শারমিন খানিকটা আপত্তি করেছে। শোভন ইঞ্জিনিয়ার, খুবই ভদ্র। শারমিনকে নাকি ছোটবেলা থেকেই শোভনের পছন্দ, কিন্তু কোনোদিন সাহস করে শারমিনকে বলতে পারে নাই । শোভন শেষ-মেষ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে নিজের বন্ধু অর্থাৎ  নুরুল্লাহ ভাইকেই ভালোলাগার বিষয়টি জানায়। অতঃপর নুরুল্লাহ ভাই একক উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু বিয়েতে দুই পরিবারের লোকজনই খুব খুশি।
যাই হোক যথারীতি শারমিন ও শোভনের  বিবাহ সম্পন্ন হয়। শারমিন শোভনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করার ১৫-২০ দিনের মাথায় শারমিনের মাধ্যমে শারমিনের পরিবার  জানতে পারে; শোভন শারীরিকভাবে অসুস্থ অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনে অপারগ। বিষয়টি জানার পর শারমিনের পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শারমিনের জীবনের এই খারাপ অবস্থার জন্য শারমিনের পুরো পরিবার নুরুল্লাহ ভাইকে দোষারোপ করতে থাকে। নুরুল্লাহ ভাই বন্ধু শোভনের উপর মারাত্মক ক্ষেপে যায়। তিনি বলেন, দূরের মানুষ সত্যি অবস্থা লুকায়ে, মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করে বোনের এত বড় ক্ষতি করলে তিনি মেনে নিতেন। কিন্তু নিজের ছোটবেলার অনেক কাছের বন্ধু শোভন জেনে শুনে শারমিনের যে ক্ষতি করলো-এর কোন ক্ষমা হয় না। তিনি শোভনকে চরম শাস্তি দিবেন। তিনি শোভনকে খুন করে জেলে যাবেন। এই মানসিকতা নিয়ে প্রচন্ড আক্রোশের সাথে শোভনের কাছে গেলেন। জানতে চাইলেন, "জেনেশুনে শোভন কেন শারমিনের জীবনে এত বড় ক্ষতি করলো?"



শোভন বন্ধুকে শান্ত করে বুঝিয়ে বলল, আগে থেকেই শোভন শারীরিক সমস্যা বুঝতে পেরে ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেয়। নিয়মিত ঔষধ খেয়ে কিছুটা উন্নতিও হয়। তখন ডাক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেয়। ডাক্তার বলে দাম্পত্য জীবনে ঢুকে গেলে বাকি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সেই পরামর্শমতেই সে বিয়ে করেছে। ঔষধ চলছে,,,, কিছুটা সময় হয়তো লাগবে,,, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল্লাহ ভাই শান্ত হয়। শোভনকে বলে পুরো বিষয়টি তোর বিয়ের আগেই আমাকে বলা উচিত ছিল। এরপর বলে, আমি তোর ডাক্তারকে ভরসা করতে পারছি না। তুই আমার সাথে আরো উন্নত হাসপাতালে উন্নত ডাক্তারের কাছে যাবি। যথারীতি নুরুল্লাহ ভাই বন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়। তারা ট্রিটমেন্ট শুরু করে। সময় যায়। কিন্তু কোনো ফলাফল আসে না। উন্নতিও হয় না। নুরুল্লাহ ভায়ের পরিবার শারমিনের এই দূরাবস্থার জন্য নুরুল্লাহ ভাইকে ক্রমাগত দোষারোপ করতেই থাকে। শোভনের প্রতি প্রত্যেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় নুরুল্লাহ ভাই এবং তার বাবা-মা শারমিনকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসে এই সম্পর্কের ইতি টানতে। শোভনকে ডিভোর্স দেওয়ায়ে তারা শারমিনকে দেখেশুনে আবার বিয়ে দিবে। একটা সুস্থ জীবন দিবে। সব শোনার পর আমি শারমিনের মতামত জানতে চাইলাম।
কিন্তু মেয়েটি প্রথমে কোনো উত্তর দিল না। চেম্বারে আসার পর থেকেই সে মাথা নিচু করে বসে আছে।
আমি বললাম, মাথা তুলো, আমার দিকে তাকাও, তোমার মতামত আমার জানা দরকার,,,
মেয়েটি আমার দিকে তাকালো,,,
দেখলাম, অল্পবয়সী, খুব সুন্দর দেখতে সে,,
বড় বড় চোখ ভর্তি পানি টলমল করছে,,,
আমি বললাম,  কাঁদছো কেন?  ডিভোর্স দিতে চাও না?
মেয়েটি ধরা গলায় বলল ভাইয়া ও বাবা-মার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত,,,
অতঃপর কাজী সাহেবকে দিয়ে তালাকের নোটিশ পাঠালাম এবং নোটারী পাবলিকের সম্মুখে ডিক্লেয়ারেশনের মাধ্যমে শারমিনের ডিভোর্সের কাজ সম্পন্ন করলাম। শারমিনকে বুঝিয়ে বললাম ইদ্দতকালীন তিন মাস সময়ের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কর, হাসবেন্ডের সাথে মিলমিশ করে নিতে চাও তবে আমার চেম্বারে চলে এসো,,, সব কিছু ঠিক করে দিব।

শোভনকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছি আজ প্রায় আড়াই মাস হলো। হঠাৎ আজ চেম্বারে শারমিন এসে উপস্থিত। সাথে খুবই হ্যান্ডসাম একটি ছেলে। কে জিজ্ঞেস করতেই বলল তার হাসবেন্ড শোভন। জানতে চাইলাম কেন এসেছো? শারমিন বলল,  তারা একসাথে থাকতে চায়। তাই ডিভোর্সটা প্রত্যাহার করা জরুরী। আমি জানতে চাইলাম শোভন কি সুস্থ হয়ে গেছে? আর নুরুল্লাহ ভাই কিংবা তোমার বাবা-মা কই? উত্তরে শারমিন বলল শোভন আগের চেয়ে আরো অসুস্থ। কিন্তু আমরা একে অন্যের সাথে থাকতে চাই। পরিবারের লোকজন তা চায় না। তাই বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি আপনার কাছে। আপনি আমার  ডিভোর্সটা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেন প্লিজ। অথবা আবার বিয়ে দিয়ে দেন।
আমি বললাম, তোমরা একসাথে থাকলে শোভন সাহেব ভালো হয়ে যাবেন- ডাক্তার কি এমন কিছু  বলেছে? উত্তরে শারমিন বলল ডাক্তারের ট্রিটমেন্ট চলছে তবে ডাক্তার কোন পজিটিভ আশা দেয় নাই।
আমি বললাম, "তাহলে তোমরা কেন এমন একটা অসম্পূর্ণ সম্পর্কে আবার ঢুকতে চাইছো?? কোনো এক সময় এই সম্পর্ক বোঝার মত ভারী লাগবে।"
শারমিন বলল, "বিয়ের পরপরই যদি কোন দূর্ঘটনায় শোভনের এমন হতো তাহলে কি আমি শোভনকে ছেড়ে যেতাম? যেতাম না। অনেকগুলো প্রাপ্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবন। এরমধ্যে দু/একটা প্রাপ্তি আমার অজানা ও অপাওয়া। তাতে কি!!  বাকিগুলো তো আমি পেয়েছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এটাই যথেষ্ট। ডিভোর্স নোটিশ পাঠাবার পর এই আড়াই মাসে অনেক ভেবে,বুঝে,শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আরো খানিকটা বুঝাবার চেষ্টা করলাম। দেখলাম একসাথে থাকার জন্য তারা বদ্ধপরিকর। অবশেষে বললাম, "নুরুল্লাহ ভাইকে না জানিয়ে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।"
শারমিন চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার হাত ধরে বলল, "ভাইয়া জানলে সব তছনছ করে দিবে। আমি পালিয়ে এসেছি। ভাইয়া আমাকে ধরে নিয়ে আটকে রাখবে। শোভনকে মারধর করবে। আপা আপনি আমার কাগজপত্র ঠিক করে দেন। আমি আর শোভন দূরে কোথাও পালিয়ে যাবো। আপা চেম্বার থেকে চলে যাবার পর আপনি ভাইয়াকে জানান প্লিজ।"
মেয়েটি হাউমাউ করে কাঁদছে। দেখলাম শোভন মেয়েটির একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে।
কিছুক্ষন খুব ভালোলাগা নিয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবলাম, অতি তুচ্ছ নগন্য এই আমি মারাত্মক সুন্দর একটি প্রেমের সাক্ষী কেন হবো না!! অবশ্যই হব। অবশ্যই ডিভোর্স প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দিব। তাতে কেউ অখুশি হয়, হোক,,,
গল্পটি শেষ করে রবীন্দ্রনাথের দুটি পঙক্তি না দিয়ে আর পারলাম না,,,,,,

ভুলিব ভাবনা,  পিছনে চাব না,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥
প্রবল পবনে তরঙ্গ তুলিল,    হৃদয় দুলিল, দুলিল দুলিল--
পাগল হে নাবিক,  ভুলাও দিগ্‌বিদিক,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥

,,,,,,,,মজার বিষয় রবীন্দ্রনাথ যেন জীবনের সকল পরিস্থিতি নিয়েই চমৎকার সব পঙক্তি লিখে গেছেন,,,,,,
,,,,নুরুল্লাহ ভাই আমার অনেক দিনের পুরাতন ক্লায়েন্ট। নুরুল্লাহ ভায়ের  নিজের মামলা এবং তার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মামলা আমি নিয়মিত পরিচালনা করে থাকি। সেই সূত্রে নুরুল্লাহ ভাই ও তার পরিবারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। আস্থার সম্পর্ক।
গত ছয় মাস আগে নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোট বোন শারমিনের বিয়ে হয়। এই বিয়েতে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। তা হলো, নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোটবেলার অত্যন্ত কাছের বন্ধু শোভনের সাথে নুরুল্লাহ ভাইয়ের আপন ছোট বোন শারমিনের বিয়ে। উনি বলেন, শারমিন শোভনের চেয়ে  ৮ বছরের ছোট। তাই শারমিন প্রথমদিকে খানিকটা আপত্তি করেছে। শোভন ইঞ্জিনিয়ার, খুবই ভদ্র। শারমিনকে নাকি ছোটবেলা থেকেই শোভনের পছন্দ, কিন্তু কোনোদিন সাহস করে শারমিনকে বলতে পারে নাই । শোভন শেষমেষ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে নিজের বন্ধু অর্থাৎ নুরুল্লাহ ভাইকেই ভালোলাগার বিষয়টি জানায়। অতঃপর নুরুল্লাহ ভাই একক উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন করে। অবশ্য  বিয়েতে দুই পরিবারের লোকজনই খুব খুশি।
যাই হোক, যথারীতি শারমিন ও শোভনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। শারমিন শোভনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করার ১৫-২০ দিনের মাথায় শারমিনের মাধ্যমে শারমিনের পরিবার জানতে পারে যে, শোভন শারীরিকভাবে অসুস্থ অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনে অপারগ। বিষয়টি জানার পর শারমিনের পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শারমিনের জীবনের এই খারাপ অবস্থার জন্য শারমিনের পুরো পরিবার নুরুল্লাহ ভাইকে দোষারোপ করতে থাকে। নুরুল্লাহ ভাই তার বন্ধু শোভনের উপর মারাত্মক ক্ষেপে যায়। তিনি বলেন, দূরের মানুষ সত্যি অবস্থা লুকিয়ে মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করে বোনের এত বড় ক্ষতি করলেও তিনি মেনে নিতেন। কিন্তু নিজের ছোটবেলার অনেক কাছের বন্ধু শোভন জেনেশুনে শারমিনের যে ক্ষতি করলো- এর কোনো ক্ষমা হয় না। তিনি শোভনকে চরম শাস্তি দিবেন। তিনি শোভনকে খুন করে জেলে যাবেন। এই মানসিকতা নিয়ে প্রচন্ড আক্রোশের সাথে শোভনের কাছে গেলেন। জানতে চাইলেন, "জেনেশুনে শোভন কেন শারমিনের জীবনে এত বড় ক্ষতি করলো?"
শোভন বন্ধুকে শান্ত করে বুঝিয়ে বলল- আগে থেকেই শোভন শারীরিক সমস্যা বুঝতে পেরে ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেয়। নিয়মিত ঔষধ খেয়ে কিছুটা উন্নতিও হয়। তখন ডাক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেয়। ডাক্তার বলে, দাম্পত্য জীবনে ঢুকে গেলে বাকি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সেই পরামর্শমতেই সে বিয়ে করেছে। ঔষধ চলছে,,,, কিছুটা সময় হয়তো লাগবে,,, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল্লাহ ভাই শান্ত হয়। শোভনকে বলে- পুরো বিষয়টি তোর বিয়ের আগেই আমাকে বলা উচিত ছিল। এরপর বলে, আমি তোর ডাক্তারকে ভরসা করতে পারছি না। তুই আমার সাথে আরো উন্নত হাসপাতালে উন্নত ডাক্তারের কাছে যাবি। যথারীতি নুরুল্লাহ ভাই বন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়। তারা ট্রিটমেন্ট শুরু করে। সময় যায়। কিন্তু কোনো ফলাফল আসে না। উন্নতিও হয় না। নুরুল্লাহ ভায়ের পরিবার শারমিনের এই দূরাবস্থার জন্য নুরুল্লাহ ভাইকে ক্রমাগত দোষারোপ করতেই থাকে। শোভনের প্রতি প্রত্যেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় নুরুল্লাহ ভাই এবং তার বাবা-মা শারমিনকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসে এই সম্পর্কের ইতি টানতে। শোভনকে ডিভোর্স দেওয়ায়ে তারা শারমিনকে দেখেশুনে আবার বিয়ে দিবে। একটা সুস্থ জীবন দিবে। সব শোনার পর আমি শারমিনের মতামত জানতে চাইলাম।
কিন্তু মেয়েটি প্রথমে কোনো উত্তর দিল না। চেম্বারে আসার পর থেকেই সে মাথা নিচু করে বসে আছে।
আমি বললাম, মাথা তুলো, আমার দিকে তাকাও, তোমার মতামত আমার জানা দরকার,,,
মেয়েটি আমার দিকে তাকালো,,,
দেখলাম, অল্পবয়সী, খুব সুন্দর দেখতে সে,,
বড় বড় চোখ ভর্তি পানি টলমল করছে,,,
আমি বললাম,  কাঁদছো কেন? ডিভোর্স দিতে চাও না?
মেয়েটি ধরা গলায় বলল- ভাইয়া ও বাবা-মার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত,,,
অতঃপর কাজী সাহেবকে দিয়ে তালাকের নোটিশ পাঠালাম এবং নোটারী পাবলিকের সম্মুখে ডিক্লেয়ারেশনের মাধ্যমে শারমিনের ডিভোর্সের কাজ সম্পন্ন করলাম। শারমিনকে বুঝিয়ে বললাম, ইদ্দতকালীন তিন মাস সময়ের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কর, হাসবেন্ডের সাথে মিলমিশ করে নিতে চাও তবে আমার চেম্বারে চলে এসো,,, সব কিছু ঠিক করে দিব।

শোভনকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছি আজ প্রায় আড়াই মাস হলো। হঠাৎ আজ চেম্বারে শারমিন এসে উপস্থিত। সাথে খুবই হ্যান্ডসাম একটি ছেলে। ইনি কে- জিজ্ঞেস করতেই বলল যে, তার হাসবেন্ড শোভন। জানতে চাইলাম, কেন এসেছো? শারমিন বলল, তারা একসাথে থাকতে চায়। তাই ডিভোর্সটা প্রত্যাহার করা জরুরী। আমি জানতে চাইলাম, শোভন সাহেব কি সুস্থ হয়ে গেছে? আর নুরুল্লাহ ভাই কিংবা তোমার বাবা-মা কই? উত্তরে শারমিন বলল, শোভন আগের চেয়ে আরো অসুস্থ। কিন্তু আমরা একে অন্যের সাথে থাকতে চাই। পরিবারের লোকজন তা চায় না। তাই বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি আপনার কাছে। আপনি আমার  ডিভোর্সটা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেন প্লিজ। অথবা আবার বিয়ে দিয়ে দেন।
আমি বললাম, তোমরা একসাথে থাকলে শোভন সাহেব ভালো হয়ে যাবেন- ডাক্তার কি এমন কিছু  বলেছে? উত্তরে শারমিন বলল, ডাক্তারের ট্রিটমেন্ট চলছে, তবে ডাক্তার কোন পজিটিভ আশা দেয় নাই।
আমি বললাম, "তাহলে তোমরা কেন এমন একটা অসম্পূর্ণ সম্পর্কে আবার ঢুকতে চাইছো? কোনো এক সময় এই সম্পর্ক বোঝার মত ভারী লাগবে।"
শারমিন বলল, "বিয়ের পরপরই যদি কোন দূর্ঘটনায় শোভনের এমন হতো তাহলে কি আমি শোভনকে ছেড়ে যেতাম? যেতাম না। অনেকগুলো প্রাপ্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবন। এর মধ্যে দু/একটা প্রাপ্তি আমার অজানা ও অপাওয়া। তাতে কি!!  বাকিগুলো তো আমি পেয়েছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এটাই যথেষ্ট। ডিভোর্স নোটিশ পাঠাবার পর এই আড়াই মাসে অনেক ভেবে, বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আরো খানিকটা বুঝাবার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, একসাথে থাকার জন্য তারা বদ্ধপরিকর। অবশেষে বললাম, "নুরুল্লাহ ভাইকে না জানিয়ে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।"
শারমিন চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার হাত ধরে বলল, "ভাইয়া জানলে সব তছনছ করে দিবে। আমি পালিয়ে এসেছি। ভাইয়া আমাকে ধরে নিয়ে আটকে রাখবে। শোভনকে মারধর করবে। আপা আপনি আমার কাগজপত্র ঠিক করে দেন। আমি আর শোভন দূরে কোথাও পালিয়ে যাবো। আপা, চেম্বার থেকে চলে যাবার পর আপনি ভাইয়াকে জানান, প্লিজ।"
মেয়েটি হাউমাউ করে কাঁদছে। দেখলাম, শোভন মেয়েটির একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে।
কিছুক্ষন খুব ভালোলাগা নিয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবলাম, অতি তুচ্ছ নগন্য এই আমি মারাত্মক সুন্দর একটি প্রেমের সাক্ষী কেন হবো না!! অবশ্যই হব। অবশ্যই ডিভোর্স প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দিব। তাতে কেউ অখুশি হয়, হোক,,,
গল্পটি শেষ করে রবীন্দ্রনাথের দুটি পংক্তি না দিয়ে আর পারলাম না,,,,,,

ভুলিব ভাবনা,  পিছনে চাব না,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥
প্রবল পবনে তরঙ্গ তুলিল,    হৃদয় দুলিল, দুলিল দুলিল--
পাগল হে নাবিক,  ভুলাও দিগ্‌বিদিক,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥

,,,,,,,,মজার বিষয় হচ্ছে - রবীন্দ্রনাথ যেন জীবনের সকল পরিস্থিতি নিয়েই চমৎকার সব পংক্তি লিখে গেছেন,,,,,,

সোমবার, ৯ মে, ২০২২

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের রিলেশনশীপ এর পথচলার ১৬ তম ঘন্টা অতিবাহিত হলো

"আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের রিলেশনশীপ এর পথচলার ১৬ তম ঘন্টা অতিবাহিত হলো, দোয়া চাই"- কিছুদিন আগে ফেসবুকে নতুন জেনারেশনের একজনের দেওয়া উপরের হেডিংটা দেখে খুব হেসেছিলাম আর ভাবছিলাম- রিলেশনশীপ আর ব্রেকাপ বিষয়টিকে টেনে নীচেয় নামাতে নামাতে এই জেনারেশন কোথায় দাঁড় করিয়েছে!!!

কিন্তু বাস্তবতা যে কল্পনা এবং  চিন্তার চেয়েও অতি রূঢ়, ভয়ঙ্কর, কুৎসিত, হাস্যকর ও লজ্জার হতে পারে- সেই লজ্জাজনক গল্পটা আজ বলছি-

রাত তিনটা। কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর শহরের নিজ বাড়িতে জামাল উদ্দীন ঘুমিয়ে আছেন। তার মোবাইল ফোন বেজে উঠলো। ঘুম ঘুম চোখে তিনি ফোন ধরলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলেন যে, তার একমাত্র ছেলের প্রিয় বন্ধু ঢাকা থেকে ফোন করেছে, এত রাতে! ছেলের বন্ধু জানালো- রামপুরা থানার পুলিশ তার ছেলেকে নারী নির্যাতন মামলায় এরেস্ট করেছে। খবরটা শোনার পর জামাল উদ্দীনের মাথা ঘুরতে লাগলো।  কি খবর সে শুনলো!! তার ছেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স পড়তেছে। সেই ছেলে কোন্ নারীকে নির্যাতন করলো? কেন করলো? কি ধরনের নির্যাতন করলো? কিছুই বুঝতে পারছেন না জামাল উদ্দীন। তার মাথা ঘুরতেছে।

ভোরেই কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন তিনি। জামাল উদ্দীন ঢাকা পৌঁছুনোর আগেই তার ছেলেকে পুলিশ কেরানীগঞ্জ জেলখানায় নিয়ে গেছে। বহু কষ্টে কেরানীগঞ্জ জেলখানাতে যেয়েই তিনি ছেলের সাথে দেখা করলেন মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবার জন্য। ছেলের কাছে যা জানলেন, তাতে জামাল উদ্দীনের মনে হলো- তার পায়ের নীচের মাটি সরে গেছে। 

ঘটনাটা হলো- জামাল উদ্দীনের ছেলে আরিয়ান গত ১ মাস আগে কাউকে না জানিয়ে প্রেমের আধিক্যে হুট করে নিজের ফেসবুক ফ্রেন্ড তাবাসসুম নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছে। বিয়ের পর আরিয়ান বুঝতে পারে যে, তাবাসসুমের অনেক ছেলেবন্ধু রয়েছে, যাদের মধ্যে আরিয়ানও একজন ছিলো। এই বিষয়টা নিয়ে আরিয়ান এবং তাবাসসুমের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো এবং এক পর্যায়ে মারামারিও হয়। আর এই ঘটনার জের ধরেই তাবাসসুম থানায় গিয়ে আরিয়ানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১(গ) ধারায় যৌতুকের জন্য মারপিট করেছে মর্মে মামলা করে বসে, যা আরিয়ানা জানতোই না। পুলিশ এসে এরেস্ট করবার পর বিষয়টি সে বুঝতে পারে।

ঘটনাগুলো হজম করতে জামাল উদ্দীনের দুইদিন সময় লাগলো। এরপর তিনি ছেলের জন্য জামিনের ব্যবস্থা করতে ছুটাছুটি শুরু করলেন। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা। জামিন পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে উকিল সাহেব জানিয়েছেন। 

যাইহোক, আজ আরিয়ানের হাজতবাসের ১৫ তম দিনে তাকে PW মূলে কোর্টে আনা হয়েছে এবং জামিনের আবেদন করা হয়েছে। উকিল সাহেব ডায়াসে দাঁড়িয়ে জামিন শুনানি করছেন। কোর্টের মধ্যে একপাশে ছোট্ট লোহার গারদে হাতকড়া পরা অবস্থায় আরিয়ানকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আরেকপাশে সাক্ষীর ডকে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ানের নববিবাহিতা বৌ তাবাসসুম। তাবাসসুম ও তার নিযুক্ত বিজ্ঞ উকিল সাহেব কঠিন ও জোরালো ভাষায় জামিনের বিরোধিতা করলেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনবার পর বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় সন্তুষ্ট হয়ে আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জামাল উদ্দীন এখন ছেলের জামিন না হওয়া  নিয়ে ভাবছেন না, তিনি অবাক চোখে তাবাসসুমকে দেখছেন! এজলাস রুমে জামাল উদ্দীনের কাছ থেকে মাত্র তিন হাত দূরে ডকে দাঁড়ানো এই মেয়েটি নাকি তার পুত্রবধু! তিনি এমনই হতভাগ্য শশুর যে- যার সাথে তার পুত্রবধুর প্রথম দর্শন হলো কোর্টের কাঠগড়ায়! তার ছেলে নাকি ভালবেসে মাত্র একমাস আগে এই মেয়েটিকে লুকিয়ে বিয়ে করেছিল,,,! হায় রে প্রেম,,, 

এ কেমন প্রেম! কেমন ভালোবাসা! কেমন বিয়ে! মাত্র একমাসের মধ্যেই সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা, সেই বিয়ে এক ঠেলায় কোর্টবারান্দায় কত কদর্য রূপ ধারণ করে চলে এলো!

জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হবার কথা শুনেই আরিয়ান ভেঙে পড়লো। আরিয়ানের গারদের কাছে এসে জামাল উদ্দীন বললেন, "বাবা রে, তোমার এত্তো ভালোবাসার বৌ, যাকে তুমি নিজ দায়িত্বে একা একাই বিয়ে করেছো, বিয়ের কথা বাবা-মাকে পর্যন্ত জানানোর প্রয়োজন মনে করো নাই, সময় পাও নাই, আমার আদরের ছেলের আরো অতি আদরের বৌ সে; আর সেই পরম মমতার গৃহলক্ষ্মীকে আমি কিনা প্রথম দেখলাম কোর্টের কাঠগড়ায় আমার কঠিন প্রতিপক্ষ হিসাবে!! আর যাই হোক, পুত্রবধু তো। আমি কি সাক্ষীর ডকের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ যে আমার একমাত্র পুত্রবধুকে আশীর্বাদ করে আসবো,,!! 

তোমার বিয়ের বয়স মাত্র এক মাস; তার উপর তোমার এত্তো দামী শখের বৌ! আগে শুনতাম শখের তোলা নাকি আশি টাকা! তো, এতো তাড়াতাড়ি ছাড়া পেতে চাও কেন! তোমাকে তো আরো কিছুদিন জেলে থাকতেই হবে বাপ! মন খারাপ করো না,,, পেটে যখন খেয়েছো, তখন দেখো পিঠে এমনিতেই সয়ে যাবে,,,, ,"

সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যবশত আমি ও শীপু  এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী। এই মামলার বাদী ও আসামী দুজনেরই কর্মকান্ড দেখে বর্তমান জেনারেশনের ছেলে-মেয়েদের রিলেশনশীপ বা প্রেমের আয়ু ঘন্টা হিসাবে ক্ষণগণনা বাদ দিয়ে আরো মডার্ন ভাষায় তাদের রোমাঞ্চকর বিবাহিত সময় কত ঘন্টা পার হচ্ছে- তা গণনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেবার কলিকাল উপস্থিত হয়েছে বলে ভ্রম হচ্ছে না তো আমার,,,,,!!! 


শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২

মানুষের চাওয়া বড়ই অদ্ভুত!!

রাকিব সাহেবের স্ত্রী মারা গেছেন বছর দুয়েক আগে। তবে তিনি একা নন। তার পাশে আছে পুত্র, পুত্র বধু, কন্যা, জামাতা, নাতি-পুতি সবাই। রাকিব সাহেবদের সাত পুরুষের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার পুরানো পল্টনে। পৈত্রিক সম্পদের অংশ হিসাবে রাকিব সাহেব পেয়েছিলেন এক দাগে সাত কাঠা জমি। সেখানে তিনি নির্মাণ করেছেন বিশাল দশ তলা ভবন। ভবনটির নাম দিয়েছেন "মায়া"। ভবনটিতে আছে অতি আধুনিক সাজে সজ্জিত  সুবিশাল ত্রিশটি ফ্ল্যাট। নিজ হাতে পৈত্রিক সম্পদের উপর নির্মিত এই "মায়া" নামক ভবনটিকে নিজ সন্তানের মতোই ভালোবাসেন রাকিব সাহেব। অবশ্য "মায়া" ভবনটি ছাড়াও রাকিব সাহেব নিজ উপার্জনে পল্টন এলাকাতেই তিন কাঠা জমির উপর "আলো" নামে আরো একটা ছয় তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। আলো ভবনটিতে আছে ১২ টি ফ্ল্যাট। 

ভাগ্য যেমন রাকিব সাহেবকে অর্থ-সম্পদ দু হাত ভরে দিয়েছে, তেমনি সন্তান-সন্ততিও দু হাত ভরে দিয়েছে।  ছয় কন্যা ও এক পুত্রের গর্বিত পিতা তিনি। ছয় কন্যা বড় ও পুত্রটি ছোট। সব মেয়েরই ভালো বিয়ে হয়েছে। সুখে আছে মেয়েরা। আর তার একমাত্র পুত্র ইঞ্জিনিয়র। ভালো চাকরি করে। পুত্রেরও সংসার হয়েছে। ঘর আলো করে এসেছে এক বছর বয়সী নাতি "সাদমান"। সাদমানকে নিয়েই রাকিব সাহেবের দিন কেটে যায়।

রাকিব সাহেবের বয়স ৬৫ বছর।  হার্টে খানিকটা সমস্যা আছে। ট্রিটমেন্ট চলছে। তবে রাকিব সাহেব বয়স ও শরীরের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজ জীবদ্দশাতেই তিনি তার সম্পদ সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিবেন। রাকিব সাহেব চান না- তার পূর্বপরুষদের থেকে পাওয়া এই সম্পদ "মায়া" ভবনটির ভেতর মেয়েরা ঢুকুক। এই চিন্তা থেকেই তিনি তার সব সন্তান ও নিকট আত্মীয়দের নিয়ে একটি ঘরোয়া মিটিংয়ে বসেন। সেখানে তিনি জানান পৈত্রিক সম্পদের অংশ হিসাবে পাওয়া এই  "মায়া" ভবনটি তিনি সম্পূর্ণ দিতে চান তার একমাত্র পুত্রকে। আর "আলো" ভবনটি দিতে চান ছয় কন্যাদেরকে। এই সিদ্ধান্তে যদিও মেয়েরা ভাগে কম পায়, তারপরও বাবার আবেগের জায়গাকে প্রাধান্য দিয়ে এবং ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে সব মেয়েই রাকিব সাহেবের এই প্রস্তাব  মেনে নেয়। এই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় রাকিব সাহেব "মায়া" ভবনটি পুত্রের নামে এবং "আলো" ভবনটি মেয়েদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে দেন।

সব ঠিকঠাকই ছিল। রাকিব সাহেবের নাতি  সাদমানও একটু বড় হয়েছে।  সে গোটা দিন দাদাভাই এর সাথে খেলা করে। রাকিব সাহেব সুখি একজন মানুষ। কিন্তু ভাগ্য মনে হয় এতো সুখ মেনে নিতে চাইলো না। তাইতো রোড এক্সিডেন্টে মারা গেলো রাকিব সাহেবের সবে ধন নীলমণি একমাত্র পুত্র সন্তানটি। 

পুরো পরিবার শোকে দিশেহারা। রাকিব সাহেব তাকাতে পারছেন না সদ্য বিধবা হওয়া পুত্রবধুর দিকে। তাকাতে পারছেন না সদ্য এতিম হওয়া নাতির দিকে। এরপরও বেঁচে থাকতে হয়, তাই বেঁচে থাকা। এরপরও লৌকিকতা করতে হয়, তাই কুলখানির আয়োজন করা।

চার দিন পর কুলখানির অনুষ্ঠান শেষে আত্মীয়- স্বজনরা একে একে বিদায় নিলেন। একপর্যায়ে পুত্র বধুর মা অর্থাৎ রাকিব সাহেবের বেয়ান এসে বললেন, " চারিদিকে জামাইয়ের স্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  এই ঘর-সংসারে থাকলে তার মেয়ে স্বামীর স্মৃতি দেখে দেখে পাগল হয়ে যাবে। মেয়ের দ্রুত  সুস্থ ও স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন নাতি সাদমানকে মানুষ করার জন্য। তাই তিনি তার মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে চান।" রাকিব সাহেবও অল্পবয়সী পুত্র বধুর মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে পুত্র বধুকে মায়ের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিলেন।

প্রায় ছয় মাস হলো রাকিব সাহেবের পুত্র মারা গেছে। পুত্রবধু ও নাতি সাদমান পারমানেন্টলি নানাবাড়িতে থাকছে। মাসে দু-একবার অবশ্য তারা রাকিব সাহেবকে দেখতে আসে। কিন্তু থাকে না। এরইমধ্যে রাকিব সাহেবের মাথায় একটা দুশ্চিন্তা ঘুরছে। কমবয়সী বিধবা পুত্রবধু। কতদিন আর একলা থাকবে!! বেয়ান দেখেশুনে নিশ্চয় তাকে আবার বিয়ে দিবে। বাতাসে তিনি অবশ্য তেমন ইঙ্গিতও পেয়েছেন। তখন তার এই "মায়া" ভবনটির কি হবে। "মায়া" ভবনটি তো তিনি তার পুত্রকে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে দিয়েছিলেন। সেই হিসাবে নাতি সাদমান ও তার মা ২৫ টি ফ্ল্যাটের মালিক। সাদমান যেহেতু শিশু তাই অভিভাবক তার মাই হবেন। মায়ের বিয়ে হবে!! অর্থাৎ ভবনটি এমন লোকের হাতে চলে যাবে যে রাকিব সাহেবের রক্তের কেউ নয়!! মাথা ঘুরতে লাগলো তার।  তিনি বুঝতে পারছেন; পুত্রের সাথে সাথে তিনি পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া এই সম্পদটিও হারালেন। 

আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে আজ রাকিব সাহেব কোর্টের বারান্দায়। পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া এই সম্পদটিতে যেন মেয়ে-জামাইরা ঢুকতে না পারে - এই চিন্তা থেকে একদিন তিনি মেয়েদের বঞ্চিত করে পুত্রকে যে সম্পদ রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে দিয়েছিলেন; আজ কোর্টে এসে তিনিই বলছেন; তিনি ভুল করে সম্পূর্ণ সম্পদটি পুত্রকে দিয়েছিলেন। তিনি মেয়েদের বঞ্চিত করতে চান না। তাই দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন।

আর এই অসম্ভব কাজটি করার জন্য তাকে যতদূর যেতে হয়, তিনি যাবেন,,,,,,,

রাকিব সাহেবকে খুব ভালো করে অনেক্ক্ষণ ধরে  দেখছি আর ভাবছি- মনুষ্য প্রবৃত্তি বড়ই অদ্ভুত!! বড়ই অদ্ভুত!! বড়ই অদ্ভুত,,,,!!!  কি যে সে চায়- তা হয়তো সে নিজেই জানে না,,,!!

বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ, ২০২২

পুরুষ্কার নিয়ে বিভ্রাট

আট বছর আগে কথা,,,, 

আমার কন্যা শেফা


প্লে- তে পড়ে এবং পুত্র তানজীম ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। দুজনের স্কুল পাশাপাশি।  মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তাদের  নিজ নিজ স্কুলে অংশগ্রহণ করলো। ছোট্ট শেফা প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ সমগ্র স্কুলের মধ্যে চিত্রাঙ্কনে প্রথম হলো। প্রথম পুরস্কার হিসাবে পেলো বেশ মোটাসোটা একখানা বই। তবে বইটি অষ্টম /নবম ক্লাসের বড়  বাচ্চাদের উপযোগী। শেফা তখনও রিডিং পড়া শেখে নাই। বইটির অক্ষরও অনেক ছোট। তাতে কি!!! ঐ মোটাসোটা বড়দের বই হাতে নিয়ে সে বিরাট খুশি। খুশিতে আর গর্বে সেতো গটমট করতে লাগলো। স্কুলের ম্যামদের সাথে গাদা গাদা ছবি তুললো নেচেনেচে, ম্যামদের কোলে উঠে। তখন তার ভাবই আলাদা।



ছবিটবি তোলা শেষ হলে শেফা নিজের প্রথম পুরস্কারের বই ও সার্টিফিকেট  নিয়ে ভাইয়ের স্কুলে গেলো ভাইকে দেখাতে। স্কুল থেকে তানজীম বাইরে এলেই চিৎকার করে বললো, " আমি ফাস্ট হয়েছি, এই দেখো কত্ত মোটা একটা বই পেয়েছি, তুমি কি হয়েছো ভাইয়া? " তানজীম জানালো সে সেকেন্ড হয়েছে। শেফা নিজের পুরস্কার দেখাবার জন্য  এবং ভাইয়ের পুরস্কার দেখবার জন্য দৌড়ে ভাইয়ের কাছে গেলো,,,,

যেয়ে দেখে সেকেন্ড পুরস্কার হিসাবে তার ভাই খুব সুন্দর বিরাট একটা রঙের বাক্স পেয়েছে। কিছুক্ষন রঙের বাক্সটার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকলো,,, 

তারপর নিজের হাতের পুরস্কার পাওয়া অতি ভালোবাসার মোটা বইটি দূরে ধুলার মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,  ভাইয়া ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে,  ভাইয়া বড়, ভাইয়া সেকেন্ড হয়েছে,,  তাও ওকে ওর স্কুল থেকে রঙের বাক্স দিয়েছে। আর আমি ছোট্ট একটা বাচ্চা,  আমি ফাস্ট হয়েছি তাও আমাকে বই দিয়েছে।  এত্তো ছোট্ট বাচ্চাকে কেউ বড়দের বই দেয়,,,ভ্যা,,,,ভ্যা,,,,,, করে কাঁদতেই থাকলো,,,, 

সাথে ননস্টপ ঝগড়া করতে লাগলো। 


পরিস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে তানজীম তাড়াতাড়ি নিজের পুরস্কার পাওয়া রঙের বাক্স ছোট বোনকে দিয়ে দিল। কিন্তু আমার কন্যার কান্না আর ঝগড়াতো থামে না। সে কেন সেই রঙের বাক্স নেবে,,,,,রঙ কি সে পেয়েছে,,,,, সে ছোট,,,,,তবে এতোও ছোট নয় যে- অন্যের পুরস্কার নিজে নিয়ে নিবে,,,,,

আরেব্বাস!!! সে কি কান্না আর ঝগড়া!!!

যদিও বুঝতে পারছিলাম না কে তার প্রতিপক্ষ,,,,, কার সাথে ঝগড়া করছে,,,,,


সেই আমার ছোট্ট ঝগড়াটি বেগম এখন অনেক বড় হয়েছে। অনেক বুঝদার। আজ তার ১২ বছর শেষ হলো। জন্মদিনে কি রান্না হবে  নিজেই তার রেসিপি ঠিক করছে,,,,, ঘর গোছাচ্ছে,,,,, আমার ঘরের ও কোর্টের কাজে সাহায্য করছে,,,

শুভ জন্মদিন,,, 

মা আমার। অনেক বড় হও,,ভালো মানুষ হও,,,,

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

তেলাপোকার চা

 


ঋতু পরিবর্তনে অনেকেই; বিশেষত বাচ্চারাও সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। ইতিমধ্যে আমার বাচ্চারা আক্রান্ত হয়েছে। কাশিতে খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমি ঔষধের পাশাপাশি ঘরের টোটকা চিকিৎসা দিচ্ছি। এর মধ্যে - আদা, লবঙ্গ, মধু ও নিজ গাছের তুলসীপাতা দিয়ে চা বানিয়ে দিচ্ছি বারবার। এই চা খেয়ে বাচ্চারা বেশ আরাম পাচ্ছে। পঞ্চ মিশ্রিত উপকরণে তৈরি এই চা কাশি নিরাময়ের জন্য খুবই উপকারী এবং খেতেও সুস্বাদু। 


নিজ গাছের তুলসীপাতা দিয়ে চা বানাতে যেয়ে ছোটবেলার একটা ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে পড়ে গেলো.........

আমাদের রাজবাড়ীর বাড়িতে যৌথ পরিবারে এক সাথে তখন ২৩/২৪ জন সদস্যের বসবাস। এর মধ্যে আমরা ৪/৫ টি বাচ্চা ছিলাম। সর্দি-কাশি সাধারণত সবকটি বাচ্চার একসাথেই হতো। এমন অবস্থায় আমার শ্রদ্ধেয় ফুফুআম্মা শুরু করতেন তার টোটকা চিকিৎসা। এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় চা বানানো। চা পাতা, মধু ও তুলসীপাতা একটা পাতিলে জ্বাল দিতেন। অতি আগ্রহে আমরা বাচ্চারা নিজ নিজ মগ হাতে গোল হয়ে চুলার পাশে বসে থাকতাম আর প্রয়োজনের চেয়েও বেশ জোরে জোরে কাশতাম; খুব কাশি হয়েছে এটা ফুফুআম্মাকে বোঝাবার জন্য, তাতে যদি ভাগে খানিকটা চা বেশি পাই সেই আশায়। যখন এই বিশেষ চা তৈরি হয়ে যেতো, তখন চায়ের পাতিলের মধ্যে ছেড়ে দিতেন হাতের মধ্যে  লুকিয়ে রাখা ঠ্যাঙ ও পাখনা ছেঁড়া দুটো জ্যান্ত তেলাপোকা। তারপর সেই চা ছেঁকে নিতেন। তেলাপোকা ছাড়া দেখেই যে যার মগ ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করতাম  কিন্তু ততক্ষণে বড় কেউ চেপে ধরে মুখে চাপ দিয়ে জোর করে গলার মধ্যে ঢেলে দিয়েছে বিশেষ সেই চা।

কেউ কেউ হয়তো বমি করে ফেলেছি। 

তবে মজার বিষয় হলো, ঐ বিশেষ চা খেয়ে কিন্তু আমাদের কাশি সেরে যেতো। তা চায়ের গুনাগুনের কারণেই হোক বা ফুফুআম্মা আবার তেলাপোকার চা খাওয়াতে পারে এই ভয়েই হোক "হামারি বুখার (কাশি) ভাগ গায়া ভায়া"।  কাশি থাকলেও ফুফুআম্মার সামনে কেউ কাশতাম না।

বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১


আনুমানিক ভাইটির বয়স ১০ বছর আর বোনটির বয়স ৩ বছর। পিচ্চি বোনটি বেশিরভাগ সময় ভাইয়ের ঘাড়ে চড়ে ঘুরতো। তাদের বাবা যুদ্ধে যেয়ে নিখোঁজ হয়েছে। একদিন যুদ্ধ বিমান থেকে বোমা পরে তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়। মা মারা যায়। ভাই একমাত্র ছোট্ট বোনকে বাঁচাতে দিশাহারা।  রাতারাতি বড় হয়ে যায় ১০ বছরের ভাইটি। বাবা-মায়ের মৃত্যুকে বোনটির কাছ থেকে আড়াল করে নিজেই বাবা-মায়ের মতো করে বোনটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে । আশ্রয়হীন, খাদ্যহীন, পোষাকহীন, ঔষধহীন, অভিভাবকহীন অমানবিক জীবনের গল্প। বেঁচে থাকা এবং বোনকে বাঁচিয়ে রাখার প্রবল চেষ্টা। তারপরও ভয়ঙ্কর পরিনতি।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত এই বিখ্যাত  এনিমেশন মুভি  "grave of the fireflies"


মুভিটি দেখতে বসলে অনুভূত হবে,যেন বাচ্চা দুটি আমারই। মনে হবে, আহারে!!!! আমার বাচ্চা এতো কষ্ট পাচ্ছে!!!!! 

নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে বাচ্চাদের নিয়ে দেখতে পারেন এই চমৎকার মুভিটি।

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

ছাগল উপাখ্যান

তন্ময়রা দুই ভাই এক বোন। সে গাজীপুর গভমেন্ট বয়েজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ভাইটি সপ্তম শ্রেণীতে আর বোনটি পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে।

তন্ময়ের বাবা হেলাল সাহেব একজন অ্যাডভোকেট। সিভিল প্রাকটিশনার হিসাবে গাজীপুর বারে তিনার বেশ সুনাম আছে। আইনকে ভালোবেসে এই পেশায় এসেছিলেন এবং এখন পর্যন্ত আইনই তার ধ্যান জ্ঞান। টাকার পেছনে ছুটেন নাই কখনো। গাজীপুর বারে বর্তমানে উকিলের ছড়াছড়ি। তাই সুনাম থাকলেও খুব বেশি মামলা মকদ্দমা হেলাল সাহেবের নাই। এরপরও যে কয়েকটি মামলা মকদ্দমা তিনার ছিল তা দিয়ে তিনি ভালোভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে করোনা ভাইরাস এর কারণে আদালত বন্ধ, সিভিল কোর্ট গুলোর অচল অবস্থা। তাই হেলাল সাহেব খুব অর্থ কষ্টে আছেন।  আজ গল্প বলছি  তন্ময়ের বাবা অ্যাডভোকেট হেলাল সাহেবের,,,,,,,,

প্রতি বছর দুই ছেলেকে সাথে করে নিয়ে দিন দশেক আগেই হাটে যেয়ে কোরবানি দেয়ার জন্য পছন্দসই পশু কিনে আনেন হেলাল সাহেব। কিন্তু গত বছর থেকেই করোনার ধাক্কায় জর্জরিত উকিল সম্প্রদায়, তাই গত বছর কোরবানি দিতে পারেন নি তিনি। বাচ্চারা খুবই মন খারাপ করেছিল। এইবার তিনি কোরবানি উপলক্ষে একটি ছাগল এনেছেন কোরবানির সাত দিন আগেই। তন্ময়রা তিন ভাই-বোন অতি উৎসাহে আম পাতা, কাঁঠাল পাতা খাওয়াচ্ছে ছাগলটাকে। ছাগলটা থাকায় বাড়িতে বেশ একটা ঈদের আমেজ আছে। তন্ময়রা আনন্দে আছে। তাদের বন্ধু বান্ধবরা এসে কোরবানির ছাগল দেখে যাচ্ছে। তন্ময়রাও যাচ্ছে  বন্ধু বান্ধবদের বাড়িতে তাদের কোরবানির গরু কিংবা ছাগল দেখতে। কোরবানির ঈদের মজাই তো পশু কেনাকাটা ও কোরবানিতে। শুধুমাত্র তন্ময়ের মা চিন্তিত। তিনি বাচ্চাদের সাথে আনন্দ করতে পারছেন না। নিচু গলায় স্বামীকে শাসাচ্ছেন, "শুধু ছাগল কিনলেই হবে; রান্নার মসলা, দুধ, চিনি, সেমাই কেনার পয়সা কোথায়,,, "

যাইহোক ঈদের দিন সকালে তন্ময়রা বেশ আনন্দ করে নিজেদের গোসলের আগে ছাগলটাকে গোসল করালো। বাবার সাথে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়লো। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, বাবা কখন কোরবানি দিবেন? বাবা বললেন, "আজ কোরবানি দেওয়া বাদ দাও। আজ তো সবাই কোরবানি দিবে। আজ যদি আমরাও কোরবানি দেই তবে তো নিজের বাড়ি, নিজের কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত থাকা লাগবে। বাড়ির কোরবানি কখন শেষ হবে আর আত্মীয়, প্রতিবেশীদের বাড়িতে কখন যাবে। কোরবানিতো তিন দিন ধরেই দেওয়া যায়। তাই আজই দিতে হবে এমন কোন কথা নেই।"

বাবার আইডিয়াটা তন্ময়ের ভালোই লাগলো। ঈদের সারাটাদিন তারা তিন ভাই-বোন আত্মীয়,  প্রতিবেশী ও বন্ধু বান্ধবদের বাড়িতে মজা করে কাটালো। তাদের কোরবানি দেয়া দেখলো। হাতে হাতে ছোটখাটো কাজ করলো। কোরবানির রান্না করা মাংস খেলো।

ঈদের দ্বিতীয় দিনও তন্ময়ের বাবা বললেন আজও কিছু মানুষ কোরবানি দিবে। অতএব, আজও আমরা কোরবানি দিব না। সবার যখন শেষ হবে তখন আমরা কোরবানি দিব। এবার তন্ময়ের খানিক বিরক্ত লাগলো। কারণ, গতকাল সে তার সব বন্ধু বান্ধবকে দাওয়াত দিয়েছে আজ কোরবানির মাংস খাওয়াবে বলে। অথচ বাবা বলছেন আজও কোরবানি দিবেন না। কাল দিবেন। সে তার বন্ধু বান্ধবকে কি বলবে!! মেজাজ খারাপ লাগতে লাগলো। মন খারাপ করে তিন ভাই-বোন ঘরে বসে রইল। দুপুরের দিকে দাওয়াত খেতে বন্ধু বান্ধবরা এলো। তাদেরকে আগামীকাল দুপুরে খাওয়াবে বলে ফেরত পাঠালো,,,,

এবার ঈদের তৃতীয় দিন। তন্ময়রা দেখলো বাবা ছাগলটি কোরবানি দেওয়ার কোন আয়োজনই করছেন না। তারা ভয়ে ভয়ে বাবার কাছে গিয়ে কখন কোরবানি হবে তা জানতে চাইলো। বাবা বললেন, " আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি সবার কোরবানিতো শেষ, অতএব এখন আর কোরবানি দিয়ে কি হবে। দরকার নেই কোরবানি দেবার। কোরবানি বাদ"

কি বলছেন বাবা!! লজ্জায় তো পাড়ায় বন্ধু বান্ধবদের কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। কিন্তু বাবা তার সিদ্ধান্তে অনড়। কোরবানি দিবেন না। লজ্জায় তন্ময়রা ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রইল। বাড়ির বাইরে গেলো না। দুপুরের দিকে তন্ময়ের কিছু বন্ধু উঁকি ঝুঁকি মেরে তন্ময়ের কাছে এলো, বলল, কিরে ঈদ তো শেষ। তোরা কোরবানি দিবি না!!দাওয়াত দিয়ে ঘরে লুকিয়ে আছিস!! এ আবার কেমন দাওয়াত!! 

কি বলবে তন্ময়!! রেগেমেগে বলল, আমাদের কোরবানি আমরা দিব কি দিব না তাতে তোদের কি,,,,,

তোদের বলব কেন,,,,, 

আর দাওয়াত দিয়েছি তাতে কি হয়েছে,,,, যাহ, তোদের দাওয়াত ফেরত নিলাম,,,

একরকম ঝগড়াই লেগে গেলো।

যাইহোক কোরবানির ছাগলটা তন্ময়দের যত্নে আম পাতা, কাঁঠাল পাতা খেয়েদেয়ে বেশ আরামেই ছিল। বিকালের দিকে একজন লোক এসে ছাগলটিকে তন্ময়দের বাড়ি থেকে নিয়ে গেলো,,,,

আসলে গত বছর হেলাল সাহেব কোরবানি দিতে পারেন নাই। বাচ্চাদের খুবই মন খারাপ ছিল। তাই এবার আর তিনি বাচ্চাদের মন খারাপ দেখতে চাননি। তাই পরিচিত একজনের কাছ থেকে বাকিতে ছাগলটি এনেছিলেন। ভেবেছিলেন কোন না কোনভাবে টাকা ম্যানেজ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি টাকা ম্যানেজ করতে পারেন নাই। তাই শেষ পর্যন্ত আর ছাগলটি কোরবানি দেওয়াও সম্ভব হলো না। ফেরত দিতে বাধ্য হলেন।

গল্পটি খুবই সাধারণ জীবনের। একটা টানাপোড়েন সংসারের। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। 


বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

আমাদের কাজল আপা


১৯৯৪ সালে SSC পাশের পর রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে ভর্তি হলাম। ক্লাস শুরু হলে দেখি দুজন ম্যাডাম বাংলা পড়ায়। পরিচয় পর্ব থেকে জানলাম অপেক্ষাকৃত কম বয়সী খুবই মিষ্টি চেহারার  ম্যাডামের নাম তাহিরা হাসান কাজল, আমাদের কাজল আপা। উনি যখন লেকচার দিতেন তখন ক্লাসে কোন গল্প করা বা অমনোযোগী হওয়া চলবে না।

আর আমরাও মাত্র স্কুল থেকে আসা ছটফটে,  বেপরোয়া ছাত্রী, ম্যাডামের লেকচারে কোন মনোযোগ দিতে চাইতাম না।  ম্যাডামও লেকচারে মনোযোগ দেয়ার জন্য কঠিন স্টিমরুলার চালাতেন। ম্যাডাম পড়ানো শুরু করেছিলেন "মেঘনাদ বধ"কাব্যের অংশবিশেষ "সমুদ্রের প্রতি রাবণ" দিয়ে। আমি ভাবলাম,,, ওহ!!!! এই গল্প!!  রাবণ সীতাকে অপহরণ করেছিল আর রাম-লক্ষ্মণ রাবণের স্বর্নলঙ্কা ধ্বংস করে সীতাকে উদ্ধার করেছিল --- সেই গল্প!!  এটা আবার কে না জানে!!!

দশমাথার অসীম শক্তিধর রাবণের গল্প কম-বেশি সবাই জানি। রামায়ণ যারা পড়েছেন, তারা বেশ ভালো করেই জানেন- রাবণ একজন অত্যাচারী ও ধর্ষক হিসেবে বিশেষ খ্যাত হয়ে আছেন মহাকাব্যের পাতায় পাতায়।

ম্যাডাম পড়াচ্ছেন "মেঘনাদ বধ কাব্য" !!!!  কিন্তু আমি অবাক হয়ে শুনলাম- এই গল্প পিচাশ রাবণের নয়। মায়া-মমতায় ভরা এক মানবিক রাবণের গল্প!!!!

মর্তের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দশানন রাবণ- যিনি দুই হাতে হিমালয়ের কৈলাশ পর্বত তুলে ফেলেছিলেন। অথচ এক বছরেরও অধিক কাল সীতা রাবণের কুক্ষিগত থাকলেও তিনি সীতার সম্ভ্রমহানি করেননি। নিজের স্বর্নের তৈরি  সাম্রাজ্য ধ্বংসের জন্য কষ্ট, ভয়ংকর উত্তাল সমুদ্র রামের বশ্যতা স্বীকার করায় আশাহত, নিজ ভায়ের বিশ্বাসঘাতকতায় জর্জরিত, পুত্রশোকে বিহ্বল রাবণের গল্প!!!!

বিমোহিত, মুগ্ধ আমি!!! কি চমৎকার বর্ণনা। মাইকেলের লেখা কবিতা আর ম্যাডামের বর্ণনায় বর্বর রাবণের জন্যও মায়া লাগতে লাগলো!!!!

ঐ দিন থেকে আর কখনোই ম্যাডামের ক্লাস মিস করিনি। সামনের বেঞ্চে বসতাম শুধুমাত্র তার লেকচার শুনবার জন্য, বুঝবার জন্য।

"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া তা দেখাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই " এই কঠিন লাইনটা রবীন্দ্রনাথের "হৈমন্তী" গল্পের। আপা 'হৈমন্তী' গল্প পড়ানোর সময় এই কঠিন লাইনটা খুবই সুন্দর ও সহজভাবে বুঝিয়েছিলেন। 'হৈমন্তী' পড়াতে পড়াতে ম্যাডাম আরো বলেছিলেন- "ভালোবাসতে হয় ছেড়ে দিয়ে, বেধে রেখে নয়"। কি চমৎকার বর্ণনা, শব্দ চয়ন , উচ্চারণ, কথার পিঠে কথার গাঁথুনি  যেন গল্পের মধ্যে আরেক গল্প। 

মনে হচ্ছে- এই তো সেদিনের কথা!!!! চোখের সামনে একেএকে ভেসে উঠছে,,,,,হৈচৈ, ক্লাস রুম, কাজল আপা আর আমরা,,,

আপার চোখে একটা ম্যাজিক ছিল। তাকালেই মনে হতো, উনি চোখ দিয়ে হাসছেন,,,,,,,

খুবই সিম্পল সাজে, পরিপাটি শাড়ি পরে, একগাল হাসি নিয়ে একেবারে  সাধারণের  অসাধারণ কাজল আপার উপস্থিতিতে যেন চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠতো। ম্যাডামের কাছে পড়া, বিভিন্ন গল্প শোনা, আজাদ স্যারের সাথে বিয়ে নিয়ে আনন্দ করা, দুজনেরই গায়ে হলুদে মজা করা, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে হৈচৈ আনন্দ করা,,,,,, এছাড়া পরবর্তীতে রাজবাড়ীর বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে খুব কাছ থেকে পেয়েছি- এটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার চরম দুঃসময়ে তিনি আমার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, "আমার হাত শক্ত করে ধর। দেখি এবার তুই কেমনে পড়ে যাস!!!!!"

কেন আমাকে এতো ভালোবেসেছেন আপা; তা জানিনা। হয়তো উনার ভালোবাসার ধরনটাই ছিল এমন শক্তিশালী!!!! 

মনে হচ্ছে খুবই অল্প সময় আপাকে পেলাম!

হুমায়ুন আহমেদ অনেক বার বলেছেন, তুচ্ছ কচ্ছপ ৪০০ বছর বাঁচে কিন্তু মানুষের জীবন কেন এতো ছোট!তেমনি আমাদের  কাজল ম্যাডাম,,,!! 

তবে সব মৃত্যুই মৃত্যু নয়।

কাজল ম্যাডাম মৃত্যর পরেও আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

পরম করুনাময় আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...