বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

অতি বড় বীর আসামী

#আইন_সাহিত্য 


অতি বড় বীর টাইপের এক আসামীর গল্প বলছি আজঃ

,

২০১১ সালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে রফিক নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায় খালের পানির মধ্যে। পরের দিন মৃত রফিকের বৌ থানায় মামলা করেন। বাদী অর্থাৎ মৃত রফিকের বৌ তার মামলার এজাহারে আসামী হিসাবে কোনো ব্যক্তির নামই উল্লেখ করতে পারেন না। অজ্ঞাতনামা লোকেরা তার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে তিনি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ তিনজন বন্ধু রাজু, তপন ও সবুজকে এরেস্ট করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়। এই তিনজন বন্ধুর মধ্যে রাজু নামের বন্ধুটি রিমান্ডের ধাক্কায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করে তাদের অন্য একজন বন্ধু; যার নাম জাফরউল্লাহ কালা; সে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে রফিককে হত্যা করেছে। আর হত্যার পর রাজু, তপন ও সবুজরা মিলে রফিকের মৃতদেহ পানির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। রাজুর এই স্বীকারোক্তিতে জাফরউল্লাহ কালা কর্তৃক রফিককে হত্যার তেমন কোনো উদ্দেশ্য বা মোটিভ পাওয়া যায় না।


তারপর স্বাভাবিক নিয়মমাফিক জাফরউল্লাহ কালা গ্রেফতার হয়। রাজু, তপন, সবুজ ও জাফরউল্লাহ কালাকে হাজতে আটক রাখা হয়। বছরখানেক হাজতবাসের পর চারজনই জামিনে বের হয়।  জামিন পেয়েই রাজু পালায় এবং এখন পর্যন্ত সে পলাতক। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচার চলে। মৃত রফিকের বৌ ও মা সহ ৯ জন সাক্ষী এই মামলাটিতে সাক্ষ্য দেয়। সাক্ষীর সময় প্রত্যেক সাক্ষীই বলেন যে, কে হত্যা করছে- সেই সম্পর্কে তারা কিছু বলতে পারবে না, তাদের কোনো ধারনা নেই। 

অবশেষে গত ১৮/১০/২৩ তারিখে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য তারিখ নির্ধারণ হয়। সকল আসামী ও তাদের পরিবার ভেবেছিল, রাজুর স্বীকারোক্তি ছাড়া আসামীদের বিরুদ্ধে আর কোনো এভিডেন্স নেই। আর রাজুও এগারো বছর যাবত পলাতক। অন্য তিনজন আসামী আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হয়েছে। অতএব, আশা করাই যায় যে, তারা তিনজন এই মামলা থেকে খালাস পাবে। 

নির্ধারিত তারিখে রায় শোনার জন্য আসামীরা আদালতে উপস্থিত হয়। অতঃপর রায়ে একমাত্র এভিডেন্স হিসেবে আসামী রাজুর দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিজ্ঞ জজ সাহেব রাজু (পলাতক), তপন ও সবুজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৩০ বছর) আর জাফরউল্লাহ কালাকে ফাঁসির আদেশ দেয়। তক্ষুনি আসামীদের আটক করে পুনরায় জেলে পাঠানো হয়।


আমার বলা গল্পটা শুরু এখান থেকে,,,,,, 


জাফরউল্লাহ কালার ফাঁসির আদেশের খবর শুনে তার পরিবার তো বিশাল কান্নাকাটি শুরু করে।  আমাকে হাইকোর্টে আপীল করার রিকোয়েস্ট করে ফোন দেয়। 

এখানে উল্লেখ্য, ফাঁসির আসামীর জন্য আপীল করতে হয় রায় ঘোষণার ৭দিনের মধ্যে। অবশ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা জাফরউল্লাহ কালার পরিবার বাংলা সিনেমা ও মিডিয়ার কল্যাণে জানে। তারা আমাকে আপীলের জন্য বারবার তাগাদা দিতে থাকে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করে দ্রুত রায়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করি আর আসামীর কাছে ওকালতনামা পাঠাই ওকালতনামায় আসামীর সিগনেচারের জন্য। কিন্তু বারবারই জাফরউল্লাহ কালার সিগনেচার বিহীন ওকালতনামা ফেরত আসতে লাগলো। 

বুঝতে পারছি না ঘটনা কি!!! এদিকে সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। জাফরউল্লাহ কালার পরিবার উদ্বিগ্ন, আমরা আইনজীবীরা উদ্বিগ্ন। কিন্তু জাফরউল্লাহ কালা কিছুতেই ওকালতনামায় সিগনেচার করছে না।


ঠিক সেই সময় জাফরউল্লাহ কালা জেলখানা থেকে একটা ফোন দিয়ে জানালো, "এত অস্থির হবার কিছু নেই। ফাঁসি দেওয়া কি এতই সহজ!! ফাঁসি দিতে অনেক সময় লাগে। অতএব, এখন চুপচাপ থাকো। যখন আমাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য আসবে, তখন আপীল করবো, তখন  ওকালতনামায় সিগনেচার করবো। তোমরা ভয় পেয়ো না। এত অস্থির হয়ো না।"


,,,,,,,অবস্থা বোঝেন, কততো বড় বীর আসামী!!! 


#লেখা

#adv_tonima_jahida

,

কোন মন্তব্য নেই:

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...