কোথা থেকে শুরু করবো, কি দিয়ে শুরু করবো বুঝতে পারছি না,,,,,,তাও লিখছি,,,,
'ইয়াসমিন আশা'র একমাত্র ছেলে 'আবরার মাহির' ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে দশম শ্রেনীতে পড়ে। ছেলের স্কুল বাসার কাছেই। সে একাই স্কুলে যেতে পারে। তাও মা তাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসে। স্কুল থেকে নিয়েও আসে। বিকালে খিলগাঁও মাঠে খেলতে গেলে মাও সাথে যায়। বসে থাকে ছেলের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত। দিনকাল ভালো না, তাই ছেলেকে একা ছাড়ে না। ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করা, পড়ালেখা ও শিষ্টাচার শেখানো, সঠিক পথ চলতে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছিল সে খুবই নিপুণ হাতে। শান্ত, চুপচাপ, সবসময় ঠোঁটে মৃদু হাসি লেগে থাকা লক্ষী মেয়েটির ছিল স্বামী ও সন্তান নিয়েই বেঁচে থাকার স্বপ্ন,,,,
কিন্তু সে কি বেঁচে থাকলো!!! তার স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থাকলো!!!
এত সুন্দর মেয়েটি যে এতো কম আয়ু নিয়ে এসেছিল- ভাবা যায় না। মৃত্যুর কাছে সে আত্মসমর্পণ করেছে। মৃত্যু নিয়ে গেছে তার সন্তানের প্রতি স্নেহ, আবেগ, টেনশন, ভালবাসা, দুশ্চিন্তা, দোয়া সব কিছু,,,,,,
জন্ম হলে অবশ্যই মৃত্যু নির্ধারিত। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘কুল্লু নাফসিন যায়িকাতুল মাউত।’ (সুরা আল-ই-ইমরান ১৮৫) অর্থাৎ, প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যু থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো পদ্ধতি মানুষের জানা নেই। স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক- যেকোনো উপয়েই হোক, মানুষ তার পৃথিবীর পাট চুকাবে, এটা নিষ্ঠুরতম সত্যি। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু আছে যা মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর,,,,,,
মহামতি মাওসেতুঙ এর সেই অমরবাণী,,,,,"কিছু কিছু মৃত্যু আছে পাখির পালকের মতো হালকা। আবার কিছু কিছু মৃত্যু পর্বতের চেয়েও ভারী",,,,,,, তাই মনে হচ্ছে, এ যেন মৃত্যু নয়, মৃত্যু নিজেই স্বেচ্ছাচারী হয়ে এদের নিয়ে খেলা করছে,,,

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন