কোর্ট গল্প-২
দৈনিক যুগান্তরের অপরাধ বিভাগের প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর হত্যা মামলার জামিন শুনানি হচ্ছে। নান্নুর বড় ভাই এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন নান্নুর স্ত্রী ও শাশুড়ী বিরুদ্ধে। এন্টিসিপেটরি বেইল (অগ্র জামিন) এ থাকা অবস্থায় আসামী দুজন নিম্ন আাদালতে জামিনের প্রার্থনা করেছে।
বিজ্ঞ আইনজীবী জামিন শুনানি শুরু করলেন--
আইনজীবীঃ সিনিয়র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর মৃত্যু কোন হত্যাকাণ্ড নয়। এটা একটা দূর্ঘটনা। কারণ ঐ বিল্ডিংয়ের ঐ ফ্লাটের ঐ কক্ষে মাত্র ছয় মাস আগে মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর ২৪ বছর বয়সী একমাত্র ছেলেও আগুনে পুড়ে মারা যান। ঠিক ছয় মাস পর নান্নু সাহেবও মারা যান আগুনে পুড়ে। এটা নিছক দূর্ঘটনা।
মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর বড় ভাই এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তিনি আজ বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত আছেন। নান্নুর বড় ভাইও বলছেন যে, নান্নুর মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ হয়ে, ভুল বুঝে তিনি এই মামলাটি নান্নুর স্ত্রী ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে দায়ের করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, নান্নুর মৃত্যু একটা দূর্ঘটনা। আসামীদের বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ নেই। তিনি আর মামলাই চালাতে চান না। তাই আসামীগন জামিন পেলে তার কোন আপত্তি নাই।
বিচারকঃ মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর বড় ভাই কোথায়? সামনে আসেন,,,
নান্নুর বড় ভাই খুবই বয়স্ক মানুষ। তিনি সামনে এলে বিচারক তাকে খুব কাছে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,,,,,,
বিচারকঃ এই যে ৬ মাসের ব্যবধানে আপনার ভাইজতা ও ভাই একইঘরে, একইভাবে মারা গেলো- এটা কি অস্বাভাবিক ঘটনা নয়? আপনি কি চান না যে, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে তার বিচার হোক,,,
নান্নুর বড় ভাইঃ নান্নুর মৃত্যু একটা দূর্ঘটনা। কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তাই আসামীরা জামিন পেলে আমার কোন আপত্তি নাই। আমি আর মামলা চালাবো না।
এবার বিচারক আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করলেন,,,,,
বিচারকঃ রাত তিনটা বাজে যখন আগুন লাগে, তখন আসামী, মানে স্ত্রী কোথায় ছিলো?
আইনজীবীঃ যে রুমে নান্নু সাহেবের গায়ে আগুন লেগেছিল, তার পাশের রুমেই নান্নুর স্ত্রী ছিলেন।
বিচারকঃ এই আগুন লাগা দূর্ঘটনায় নান্নু সাহেব ছাড়া অন্য কেউ দগ্ধ হয়েছে কি?
আইনজীবীঃ না বিজ্ঞ আদালত। আর কেউ দগ্ধ হয়নি
এই হলো মোট শুনানি। সবকিছু মিলায়ে কত সিম্পল মামলা। বিজ্ঞ বিচারক আদেশ লেখা শুরু করলেন। লেখার একপর্যায়ে এজলাস কক্ষে মহিলা পুলিশ উপস্থিতির আদেশ দিলেন। বুঝলাম- পরিস্থিতি চোখে যা দেখছি, আসলে তা দেখছি না,,,,,, যা শুনছি আসলে তা শুনছি না,,,,,,। ঐ মামলার আইনজীবীও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বার বার বলতে লাগলেন- যিনি মামলা করেছেন তিনিই তো আর কোন অভিযোগ করছে না, আসামীরা জামিন পেলে তারই (নান্নুর ভাইয়ের) তো কোন আপত্তি নেই। আর আমি আরো শুনানি করতে চাই।
বিচারকঃ আপনি যদি উচ্চ আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন, তবে ঐখানে যেয়ে জামিন পাবেন। আপাতত শাশুড়ীকে জামিন দিলাম আর স্ত্রীর জামিন নামঞ্জুর।
অর্থাৎ বিজ্ঞ বিচারক আসামী স্ত্রীকে জামিন দিল না। কারাগারে আটকের আদেশ দিল।
আসামী, মানে স্ত্রী এটা শোনা ও বোঝার পর গগনবিদারী চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। মহিলা পুলিশ তাকে একরকম জোর করেই এজলাস কক্ষ ত্যাগ করালো,,,
বিচারকের বিচক্ষণতা দেখলাম। মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তরের উপর বিচারক তার সিদ্ধান্ত নিলেন,,,,,


২টি মন্তব্য:
.কোর্ট গল্প ২
Blessing
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন