শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১

আমাদের বাড়ির ঈদ


শীপুরা সাত ভাইবোন ও তাদের বাচ্চাকাচ্চা সহ আমার শশুড় বাড়ির পরিবারের সদস্য সংখ্যা ত্রিশ জনের মত। মোটামুটি সবাই ঈদের সময় একসাথে হই। এদেরই গল্প করছি আজ,,,,,

★ঈদের দিন খাঁটি গরুর দুধ দিয়ে সেমাই রান্না করবে তাই আগে থেকেই অনেকগুলো দুই লিটারের বোতলে ফ্রিজের ডিপে দুধ সংরক্ষণ করেছিল বাড়ির বৌয়েরা। ঈদের দিন খুব ভোরে বরফ মুক্ত করার জন্য বোতল গুলো বের করে রাখা হলেও বরফমুক্ত হয় নি,,, এই অপরাধে শাশুড়ী আম্মা সবগুলো বৌকে, "কোন কামের না" বলে তীব্র ভর্ৎসনা করা শুরু করলেন। আর তা দুধে জ্বাল না আসা পর্যন্ত চলতেই থাকলো,,,,,

★ঈদের নামাজে যাবে। কেউ একজন গোসল করতে এসেছে। কিন্তু  খুঁজে পাচ্ছে না ঈদের জন্য কেনা একাধিক সাবান ও শ্যাম্পুর একটাও। দুই-দুটো বাথরুম ও কলপাড়ে খোঁজা হলো। পাওয়া গেলো না। পাওয়া যাবে কিভাবে আগে থেকেই দুএকজন সদস্য ঐ সব সাবান শ্যাম্পু নিয়ে চলে গেছে নদীতে। অগ্যত কিছুক্ষণ হৈচৈ করে কাপড় কাঁচা সাবান দিয়ে গোসল সারতে হলো,,,

★গোসল করে ঈদের জন্য কেনা নতুন পায়জামা, পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত সাদিক ও আইমান। তারপর হয়তো বড় কারো ওযু করা দেখে মনে পড়েছে, নামাজে যাচ্ছে কিন্তু তাদের তো ওযু করা হয়নি। মাতব্বরি করে পেচকি দুইজন নিজেরাই ওযু করে এসেছে। তবে তারা শুধুমাত্র হাতমুখই ভিজায় নি,, নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবির ভিজিয়ে নিয়ে এসেছে,,, বাধ্য হয়ে ঠান্ডা লাগার ভয়ে তাদের পায়জামা-পাঞ্জাবি চেঞ্জ করে নতুন সার্ট প্যান্ট পরিয়ে নামাজে পাঠানো হলো। মজার ব্যাপার পিচ্চিরা নতুন ড্রেসে লাগানো স্টিকার ছিঁড়তে দিবে না। অতএব স্টিকারসহ ড্রেসই তারা পরে রইল,,,

★হায় হায়,,, ঈদের জন্য নতুন পায়জামা কেনা হয়েছে কিন্তু খেয়াল করে দোকানীর কাছ থেকে পায়জামার ফিতা আনা হয়নি। কেউ একটা ফিতা ম্যানেজ করে দাও তাড়াতাড়ি। তাড়াহুড়োর সময় কোন ফিতা পাওয়া গেলো না। ভাবি দৌড়ে এসে হয়তো নিজের পেটিকোট হতে ফিতে খুলে দেয়। ভাবলেন বিপদ উদ্ধার হলো!!!!মোটেই না,,, এরপর পাওয়া যায় না পায়জামাতে ফিতে ঢুকানোর জন্য একটাও সেফটিপিন,,  

★নামাজ শুরু হতে বাকি আছে আর মাত্র  পনেরো মিনিট। বড় ভাই সবাইকে তাড়া দিচ্ছেন। শেষমেশ সবাই প্রস্তুত একমাত্র  সোহাগ ছাড়া(সোহাগ হলো আমার চার নং দেবর)। সে তখন মাত্র গোসল করছে,,,। বড় ভাই সোহাগকে দেরি করার জন্য খানিক রাগবার করলো। তারপর বলল- তুমি তৈরি হয়ে দ্রুত আসো; আমরা সকলে নামাজের জন্য সামনে হাটঁতে শুরু করি। তিনি সকলকে নিয়ে রওনা দিলেন। বেশ খানিক দূর চলে গেছেন। ততক্ষণে সোহাগ কোনোরকম রেডি হয়ে পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে,, ওরে তোরা আমাকে ফেলে যাস না,,,, ও শীপু ও রিপন দাঁড়া,,,,, ও শিশির একটু দাঁড়া,,,, আমাকে ফেলে যাস না,,,,,মিয়া ভাই,,,,


★বাড়ির সব বাচ্চারা বড়দের কাছ থেকে বেশ কিছু ঈদের সেলামি পেয়েছে। পিচ্চিগুলো নিজেদের টাকা সংরক্ষণ করতে পারছে না; কারন অপেক্ষাকৃত বড় বাচ্চারা পিচ্চিগুলোকে ধীরে ধীরে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে সম্পূর্ণ পকেট ফাঁকা করে দিয়েছে। পিচ্চিগুলো এক সময় এই পুকুরচুরি ধরতে পারে এবং হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি না করা পর্যন্ত দুষ্টু ভাই বোনেরা টাকা ফেরত দেয় না,,,

সম্ভবত, উপরের ঘটনা গুলো ঈদের দিন সকালে আমাদের সবার বাড়িতেই কমবেশি ঘটে,,
হাসি-কান্না, মান-অভিমান, ঝগড়া-আনন্দ হৈ-হুল্লোড় --- এই সব কিছু নিয়েই আমাদের ঈদ আনন্দ,,, 
বছরের এই একটা দিনে গ্রামের বাড়ীতে বাবা-মা ও সব ভাইবোন সকলে একসাথে হবার জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেতে চাই,,,,তাতে হয়তো যান জটে পড়ে মাইলের পর মাইল হাঁটি, লকডাউনের লক ভেঙে ফেলি, করোনায় আক্রান্ত হই, স্পীডবোর্ড বা ট্রলারে নদী পার হতে যেয়ে ডুবে মরি, ফেরিতে হাজার মানুষের চাপাচাপিতে মরি, রোড এক্সিডেন্ট করি,,,,, তাও ঈদে বাড়ি যেতে চাই বেঁচে বা মরে,,,,,এবং এক সময় পৌছে যাই নাড়ীর টানে, মাটির টানে, ভালোবাসার টানে নিজ গ্রামে,,,, 


কোন মন্তব্য নেই:

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...