স্পর্শ শব্দটির সাথে আমরা নানাভাবে জড়িয়ে আছি, জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ-অনুভূতি। মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে আসার পর মায়ের স্পর্শে শিশু পায় নিশ্চয়তা, নির্ভরতা। অর্থাৎ স্পর্শের সাথে আমরা জন্ম থেকেই পরিচিত হতে থাকি। এরপর আছে বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদীসহ বাড়ির অনেক মুরব্বি ,,,,কিছুটা ব্যতিক্রমী হলো বন্ধুর স্পর্শ। আরো ব্যতিক্রমী স্পর্শ হলো প্রিয়ার বা প্রেয়সীর। প্রতিটা স্পর্শের থাকে নিজস্ব আলাদা আলাদা ভাষা। মজার বিষয় এই স্পর্শের ভাষা কারো কাছ থেকে বা কোনভাবে শিখতে হয় না। আমরা নিজে নিজেই শিখে যাই। এই আদর, স্নেহ, ভালোবাসা ও প্রেমের স্পর্শের প্রত্যেকটা ভাষা আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি। যেটা শিশুকাল থেকে সচেতন বাবা-মায়েরা শেখাতে চেষ্টা করে, তা হলো খারাপ স্পর্শ। যদিও একটু বড় হলেই এই খারাপ স্পর্শটাই আমরা চোখের নিমিষে বুঝে যাই। খারাপ স্পর্শ মন বুঝার আগে বুঝে আমাদের ইন্দ্রিয়। এর কারন হাজার হাজার স্পর্শ সবই হয় ভালো, এর মধ্যে দু-একটি হয় খারাপ স্পর্শ। তাই এর ভাষা হয় খুবই তীব্র ও দুর্গন্ধযুক্ত,,,,
এই খারাপ স্পর্শ যে শুধু মেয়েদের সাথে হয়- তাই কিন্তু নয়; ছেলেদের সাথেও হয়। আসলে এর জন্য বিশেষ কোন নারী-পুরুষ, বয়স, জায়গা, অবস্থা বা সম্পর্কের দরকার হয় না। যে কেউ, যে কোন জায়গায় এর স্বীকার হয়ে থাকে।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই বাচ্চারা এমনকি কিশোর-কিশোরীরাও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত খারাপ স্পর্শের বিষয়টা বা তাদের সঙ্গে কী হচ্ছে, সেটা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারে না। তাই শিশুকাল থেকে নিজের শরীর ও স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন ও মানসিক সতর্কতা তৈরি করাতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে- শরীর একান্তই তার নিজস্ব এবং তার আওতাধীন। কোন্ আদর কতটুকু গ্রহণ করবে বা করবে না, সেটার সম্পূর্ণ অধিকার তার। যেকোনো পরিস্থিতিতে অস্বস্তিকর স্পর্শকে সে স্পষ্টভাবে, দৃঢ়তার সাথে না বলতে এবং ওই মুহূর্তে সেখান থেকে তাকে সরে আসতে শেখাতে হবে। বিভিন্ন স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
এই অস্বস্তিকর স্পর্শের কথা শিশু যেন সঙ্গে সঙ্গে মা-বাবা বা অভিভাবককে জানায়- সেই শিক্ষা ওদেরকে দিতে হবে গল্পের মাধ্যমে। শিশুকে আগে থেকেই আশ্বস্ত করে রাখুন- এ রকম ঘটনার ক্ষেত্রে সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে আপনি সব সময় তার পাশে আছেন।
সন্তানের অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
তবে সন্তানের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ভয়ে শিশুকে কারও সঙ্গে মিশতে না দেওয়া বা বাইরে খেলতে না দেওয়াও ঠিক না। খেলাধুলা বা সামাজিক মেলামেশা শিশুর মানসিক দক্ষতা বাড়ায়, যা শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে ও পরিবেশ চিনে নিতে সাহায্য করে।
কর্মজীবী মহিলা বা মেয়ে, যারা প্রতিনিয়ত বাইরে যায় তারা প্রায়ই এই খারাপ স্পর্শের অনুভুতি পায়। বিশেষ করে বাসের মধ্যে। এমন পরিস্থিতি হলে কি বলবেন আপনি!!! বা কি করবেন!!! অভিযোগ করবেন!!!! বাসের প্রতিটা মানুষ মাথা ঘুরিয়ে আপনাকেই দেখবে,,,উৎসুক কেউ কেউ বলবে বলেনতো আপা কি করছে!!!!!!!!এই অনুভূতি অনুভব হয় কয়েক সেকেন্ডের জন্য। যার কোন প্রমানও থাকে না। তাই এসব ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক সতর্কতা বাড়াতে হবে। সচেতন থাকতে হবে।
এতক্ষণ তো শুধুমাত্র খারাপ স্পর্শ নিয়ে প্যাঁচাল পারলাম,,,এবার অন্য একটা অনুভূতির গল্প বলি,,,
তখন আমি দশ মাসের প্রেগন্যান্সি নিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরছি। বিরাট স্থুল পেট। রাস্তা পারাপার হব।মতিঝিলে তখনও ওভার ব্রিজ হয়নি। প্রচুর গাড়ির চাপ। রাস্তা পার হবার জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু কোনভাবেই পার হতে পারছি না। আমার চারপাশে রাস্তা পারাপারের জন্য বেশ লোক জমে গেছে। একসময় রাস্তার ঐ চলমান গাড়ির মধ্যেই লোকেরা পার হতে চেস্টা করলো। আমিও পা বাড়ালাম। পরক্ষণেই টের পেলাম অসম্ভব শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ কোন হাত আমার ডান বাহুটা লোহার মতো শক্ত করে ধরলো। আমার আপত্তি কিংবা অনুমতির কোন অভিব্যক্তি প্রকাশের আগেই তিনি একরকম আমার শরীরটাকে নিজে বহন করে রাস্তা পার করে দিল। আমি নিজে সেইফ স্থানে দাঁড়ানোর আগেই ঐ লোক ভীড়ের মধ্যে মিশে গেলো। আমি জানিনা সে কে বা কোন বয়সের। এই স্পর্শের নাম কি? দীর্ঘ বছর পরেও সেই স্পর্শকে অনেক সন্মানের সাথে মনে রেখেছি,,,
আমরা চাই পৃথিবীর প্রতিটি সন্তান নিরাপদে থাক,,,প্রতিটি মহিলা,,,প্রতিটি মানুষ নিরাপদে থাক,,,
আমাদের পারিবারিক পজিটিভ মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা থেকে আমাদের সন্তানেরা স্পর্শের ভালো দিকগুলো, জীবনের ভালো দিকগুলো শিখুক। আমাদের ও আমাদের সন্তানদের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব তৈরি হোক। তাদের ভালবাসাময় বলিষ্ঠ স্পর্শের কথা সম্মানের সাথে স্মরণ করুক অন্য কেউ,,,,,,


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন