ঋতু পরিবর্তনে অনেকেই; বিশেষত বাচ্চারাও সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। ইতিমধ্যে আমার বাচ্চারা আক্রান্ত হয়েছে। কাশিতে খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমি ঔষধের পাশাপাশি ঘরের টোটকা চিকিৎসা দিচ্ছি। এর মধ্যে - আদা, লবঙ্গ, মধু ও নিজ গাছের তুলসীপাতা দিয়ে চা বানিয়ে দিচ্ছি বারবার। এই চা খেয়ে বাচ্চারা বেশ আরাম পাচ্ছে। পঞ্চ মিশ্রিত উপকরণে তৈরি এই চা কাশি নিরাময়ের জন্য খুবই উপকারী এবং খেতেও সুস্বাদু।
নিজ গাছের তুলসীপাতা দিয়ে চা বানাতে যেয়ে ছোটবেলার একটা ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে পড়ে গেলো.........
আমাদের রাজবাড়ীর বাড়িতে যৌথ পরিবারে এক সাথে তখন ২৩/২৪ জন সদস্যের বসবাস। এর মধ্যে আমরা ৪/৫ টি বাচ্চা ছিলাম। সর্দি-কাশি সাধারণত সবকটি বাচ্চার একসাথেই হতো। এমন অবস্থায় আমার শ্রদ্ধেয় ফুফুআম্মা শুরু করতেন তার টোটকা চিকিৎসা। এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় চা বানানো। চা পাতা, মধু ও তুলসীপাতা একটা পাতিলে জ্বাল দিতেন। অতি আগ্রহে আমরা বাচ্চারা নিজ নিজ মগ হাতে গোল হয়ে চুলার পাশে বসে থাকতাম আর প্রয়োজনের চেয়েও বেশ জোরে জোরে কাশতাম; খুব কাশি হয়েছে এটা ফুফুআম্মাকে বোঝাবার জন্য, তাতে যদি ভাগে খানিকটা চা বেশি পাই সেই আশায়। যখন এই বিশেষ চা তৈরি হয়ে যেতো, তখন চায়ের পাতিলের মধ্যে ছেড়ে দিতেন হাতের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ঠ্যাঙ ও পাখনা ছেঁড়া দুটো জ্যান্ত তেলাপোকা। তারপর সেই চা ছেঁকে নিতেন। তেলাপোকা ছাড়া দেখেই যে যার মগ ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করতাম কিন্তু ততক্ষণে বড় কেউ চেপে ধরে মুখে চাপ দিয়ে জোর করে গলার মধ্যে ঢেলে দিয়েছে বিশেষ সেই চা।
কেউ কেউ হয়তো বমি করে ফেলেছি।
তবে মজার বিষয় হলো, ঐ বিশেষ চা খেয়ে কিন্তু আমাদের কাশি সেরে যেতো। তা চায়ের গুনাগুনের কারণেই হোক বা ফুফুআম্মা আবার তেলাপোকার চা খাওয়াতে পারে এই ভয়েই হোক "হামারি বুখার (কাশি) ভাগ গায়া ভায়া"। কাশি থাকলেও ফুফুআম্মার সামনে কেউ কাশতাম না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন