শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

প্রেমেরো জোয়ারে, ভাসাবো দোঁহারে,বাঁধন খুলে দাও, দাও দাও দাও

 নুরুল্লাহ ভাই আমার অনেক দিনের পুরাতন ক্লায়েন্ট। নুরুল্লাহ ভায়ের  নিজের মামলা এবং তার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মামলা আমি নিয়মিত পরিচালনা করে থাকি। সেই সূত্রে নুরুল্লাহ ভাই ও তার পরিবারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। আস্থার সম্পর্ক।

গত ছয় মাস আগে নুরুল্লাহ ভাইয়ের
ছোট বোন শারমিনের বিয়ে হয়। এই বিয়েতে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। তা হলো, নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোটবেলার অত্যন্ত কাছের বন্ধু শোভনের সাথে নুরুল্লাহ ভাইয়ের আপন ছোট বোন শারমিনের বিয়ে। উনি বলেন, শারমিন এবং শোভনের বয়সের ডিফারেন্স  ৮ বছর তাই প্রথমে শারমিন খানিকটা আপত্তি করেছে। শোভন ইঞ্জিনিয়ার, খুবই ভদ্র। শারমিনকে নাকি ছোটবেলা থেকেই শোভনের পছন্দ, কিন্তু কোনোদিন সাহস করে শারমিনকে বলতে পারে নাই । শোভন শেষ-মেষ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে নিজের বন্ধু অর্থাৎ  নুরুল্লাহ ভাইকেই ভালোলাগার বিষয়টি জানায়। অতঃপর নুরুল্লাহ ভাই একক উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন করে। কিন্তু বিয়েতে দুই পরিবারের লোকজনই খুব খুশি।
যাই হোক যথারীতি শারমিন ও শোভনের  বিবাহ সম্পন্ন হয়। শারমিন শোভনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করার ১৫-২০ দিনের মাথায় শারমিনের মাধ্যমে শারমিনের পরিবার  জানতে পারে; শোভন শারীরিকভাবে অসুস্থ অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনে অপারগ। বিষয়টি জানার পর শারমিনের পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শারমিনের জীবনের এই খারাপ অবস্থার জন্য শারমিনের পুরো পরিবার নুরুল্লাহ ভাইকে দোষারোপ করতে থাকে। নুরুল্লাহ ভাই বন্ধু শোভনের উপর মারাত্মক ক্ষেপে যায়। তিনি বলেন, দূরের মানুষ সত্যি অবস্থা লুকায়ে, মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করে বোনের এত বড় ক্ষতি করলে তিনি মেনে নিতেন। কিন্তু নিজের ছোটবেলার অনেক কাছের বন্ধু শোভন জেনে শুনে শারমিনের যে ক্ষতি করলো-এর কোন ক্ষমা হয় না। তিনি শোভনকে চরম শাস্তি দিবেন। তিনি শোভনকে খুন করে জেলে যাবেন। এই মানসিকতা নিয়ে প্রচন্ড আক্রোশের সাথে শোভনের কাছে গেলেন। জানতে চাইলেন, "জেনেশুনে শোভন কেন শারমিনের জীবনে এত বড় ক্ষতি করলো?"



শোভন বন্ধুকে শান্ত করে বুঝিয়ে বলল, আগে থেকেই শোভন শারীরিক সমস্যা বুঝতে পেরে ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেয়। নিয়মিত ঔষধ খেয়ে কিছুটা উন্নতিও হয়। তখন ডাক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেয়। ডাক্তার বলে দাম্পত্য জীবনে ঢুকে গেলে বাকি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সেই পরামর্শমতেই সে বিয়ে করেছে। ঔষধ চলছে,,,, কিছুটা সময় হয়তো লাগবে,,, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল্লাহ ভাই শান্ত হয়। শোভনকে বলে পুরো বিষয়টি তোর বিয়ের আগেই আমাকে বলা উচিত ছিল। এরপর বলে, আমি তোর ডাক্তারকে ভরসা করতে পারছি না। তুই আমার সাথে আরো উন্নত হাসপাতালে উন্নত ডাক্তারের কাছে যাবি। যথারীতি নুরুল্লাহ ভাই বন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়। তারা ট্রিটমেন্ট শুরু করে। সময় যায়। কিন্তু কোনো ফলাফল আসে না। উন্নতিও হয় না। নুরুল্লাহ ভায়ের পরিবার শারমিনের এই দূরাবস্থার জন্য নুরুল্লাহ ভাইকে ক্রমাগত দোষারোপ করতেই থাকে। শোভনের প্রতি প্রত্যেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় নুরুল্লাহ ভাই এবং তার বাবা-মা শারমিনকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসে এই সম্পর্কের ইতি টানতে। শোভনকে ডিভোর্স দেওয়ায়ে তারা শারমিনকে দেখেশুনে আবার বিয়ে দিবে। একটা সুস্থ জীবন দিবে। সব শোনার পর আমি শারমিনের মতামত জানতে চাইলাম।
কিন্তু মেয়েটি প্রথমে কোনো উত্তর দিল না। চেম্বারে আসার পর থেকেই সে মাথা নিচু করে বসে আছে।
আমি বললাম, মাথা তুলো, আমার দিকে তাকাও, তোমার মতামত আমার জানা দরকার,,,
মেয়েটি আমার দিকে তাকালো,,,
দেখলাম, অল্পবয়সী, খুব সুন্দর দেখতে সে,,
বড় বড় চোখ ভর্তি পানি টলমল করছে,,,
আমি বললাম,  কাঁদছো কেন?  ডিভোর্স দিতে চাও না?
মেয়েটি ধরা গলায় বলল ভাইয়া ও বাবা-মার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত,,,
অতঃপর কাজী সাহেবকে দিয়ে তালাকের নোটিশ পাঠালাম এবং নোটারী পাবলিকের সম্মুখে ডিক্লেয়ারেশনের মাধ্যমে শারমিনের ডিভোর্সের কাজ সম্পন্ন করলাম। শারমিনকে বুঝিয়ে বললাম ইদ্দতকালীন তিন মাস সময়ের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কর, হাসবেন্ডের সাথে মিলমিশ করে নিতে চাও তবে আমার চেম্বারে চলে এসো,,, সব কিছু ঠিক করে দিব।

শোভনকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছি আজ প্রায় আড়াই মাস হলো। হঠাৎ আজ চেম্বারে শারমিন এসে উপস্থিত। সাথে খুবই হ্যান্ডসাম একটি ছেলে। কে জিজ্ঞেস করতেই বলল তার হাসবেন্ড শোভন। জানতে চাইলাম কেন এসেছো? শারমিন বলল,  তারা একসাথে থাকতে চায়। তাই ডিভোর্সটা প্রত্যাহার করা জরুরী। আমি জানতে চাইলাম শোভন কি সুস্থ হয়ে গেছে? আর নুরুল্লাহ ভাই কিংবা তোমার বাবা-মা কই? উত্তরে শারমিন বলল শোভন আগের চেয়ে আরো অসুস্থ। কিন্তু আমরা একে অন্যের সাথে থাকতে চাই। পরিবারের লোকজন তা চায় না। তাই বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি আপনার কাছে। আপনি আমার  ডিভোর্সটা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেন প্লিজ। অথবা আবার বিয়ে দিয়ে দেন।
আমি বললাম, তোমরা একসাথে থাকলে শোভন সাহেব ভালো হয়ে যাবেন- ডাক্তার কি এমন কিছু  বলেছে? উত্তরে শারমিন বলল ডাক্তারের ট্রিটমেন্ট চলছে তবে ডাক্তার কোন পজিটিভ আশা দেয় নাই।
আমি বললাম, "তাহলে তোমরা কেন এমন একটা অসম্পূর্ণ সম্পর্কে আবার ঢুকতে চাইছো?? কোনো এক সময় এই সম্পর্ক বোঝার মত ভারী লাগবে।"
শারমিন বলল, "বিয়ের পরপরই যদি কোন দূর্ঘটনায় শোভনের এমন হতো তাহলে কি আমি শোভনকে ছেড়ে যেতাম? যেতাম না। অনেকগুলো প্রাপ্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবন। এরমধ্যে দু/একটা প্রাপ্তি আমার অজানা ও অপাওয়া। তাতে কি!!  বাকিগুলো তো আমি পেয়েছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এটাই যথেষ্ট। ডিভোর্স নোটিশ পাঠাবার পর এই আড়াই মাসে অনেক ভেবে,বুঝে,শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আরো খানিকটা বুঝাবার চেষ্টা করলাম। দেখলাম একসাথে থাকার জন্য তারা বদ্ধপরিকর। অবশেষে বললাম, "নুরুল্লাহ ভাইকে না জানিয়ে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।"
শারমিন চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার হাত ধরে বলল, "ভাইয়া জানলে সব তছনছ করে দিবে। আমি পালিয়ে এসেছি। ভাইয়া আমাকে ধরে নিয়ে আটকে রাখবে। শোভনকে মারধর করবে। আপা আপনি আমার কাগজপত্র ঠিক করে দেন। আমি আর শোভন দূরে কোথাও পালিয়ে যাবো। আপা চেম্বার থেকে চলে যাবার পর আপনি ভাইয়াকে জানান প্লিজ।"
মেয়েটি হাউমাউ করে কাঁদছে। দেখলাম শোভন মেয়েটির একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে।
কিছুক্ষন খুব ভালোলাগা নিয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবলাম, অতি তুচ্ছ নগন্য এই আমি মারাত্মক সুন্দর একটি প্রেমের সাক্ষী কেন হবো না!! অবশ্যই হব। অবশ্যই ডিভোর্স প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দিব। তাতে কেউ অখুশি হয়, হোক,,,
গল্পটি শেষ করে রবীন্দ্রনাথের দুটি পঙক্তি না দিয়ে আর পারলাম না,,,,,,

ভুলিব ভাবনা,  পিছনে চাব না,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥
প্রবল পবনে তরঙ্গ তুলিল,    হৃদয় দুলিল, দুলিল দুলিল--
পাগল হে নাবিক,  ভুলাও দিগ্‌বিদিক,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥

,,,,,,,,মজার বিষয় রবীন্দ্রনাথ যেন জীবনের সকল পরিস্থিতি নিয়েই চমৎকার সব পঙক্তি লিখে গেছেন,,,,,,
,,,,নুরুল্লাহ ভাই আমার অনেক দিনের পুরাতন ক্লায়েন্ট। নুরুল্লাহ ভায়ের  নিজের মামলা এবং তার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মামলা আমি নিয়মিত পরিচালনা করে থাকি। সেই সূত্রে নুরুল্লাহ ভাই ও তার পরিবারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। আস্থার সম্পর্ক।
গত ছয় মাস আগে নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোট বোন শারমিনের বিয়ে হয়। এই বিয়েতে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। তা হলো, নুরুল্লাহ ভাইয়ের ছোটবেলার অত্যন্ত কাছের বন্ধু শোভনের সাথে নুরুল্লাহ ভাইয়ের আপন ছোট বোন শারমিনের বিয়ে। উনি বলেন, শারমিন শোভনের চেয়ে  ৮ বছরের ছোট। তাই শারমিন প্রথমদিকে খানিকটা আপত্তি করেছে। শোভন ইঞ্জিনিয়ার, খুবই ভদ্র। শারমিনকে নাকি ছোটবেলা থেকেই শোভনের পছন্দ, কিন্তু কোনোদিন সাহস করে শারমিনকে বলতে পারে নাই । শোভন শেষমেষ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে নিজের বন্ধু অর্থাৎ নুরুল্লাহ ভাইকেই ভালোলাগার বিষয়টি জানায়। অতঃপর নুরুল্লাহ ভাই একক উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন করে। অবশ্য  বিয়েতে দুই পরিবারের লোকজনই খুব খুশি।
যাই হোক, যথারীতি শারমিন ও শোভনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। শারমিন শোভনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করার ১৫-২০ দিনের মাথায় শারমিনের মাধ্যমে শারমিনের পরিবার জানতে পারে যে, শোভন শারীরিকভাবে অসুস্থ অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনে অপারগ। বিষয়টি জানার পর শারমিনের পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শারমিনের জীবনের এই খারাপ অবস্থার জন্য শারমিনের পুরো পরিবার নুরুল্লাহ ভাইকে দোষারোপ করতে থাকে। নুরুল্লাহ ভাই তার বন্ধু শোভনের উপর মারাত্মক ক্ষেপে যায়। তিনি বলেন, দূরের মানুষ সত্যি অবস্থা লুকিয়ে মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করে বোনের এত বড় ক্ষতি করলেও তিনি মেনে নিতেন। কিন্তু নিজের ছোটবেলার অনেক কাছের বন্ধু শোভন জেনেশুনে শারমিনের যে ক্ষতি করলো- এর কোনো ক্ষমা হয় না। তিনি শোভনকে চরম শাস্তি দিবেন। তিনি শোভনকে খুন করে জেলে যাবেন। এই মানসিকতা নিয়ে প্রচন্ড আক্রোশের সাথে শোভনের কাছে গেলেন। জানতে চাইলেন, "জেনেশুনে শোভন কেন শারমিনের জীবনে এত বড় ক্ষতি করলো?"
শোভন বন্ধুকে শান্ত করে বুঝিয়ে বলল- আগে থেকেই শোভন শারীরিক সমস্যা বুঝতে পেরে ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেয়। নিয়মিত ঔষধ খেয়ে কিছুটা উন্নতিও হয়। তখন ডাক্তার তাকে বিয়ে করার জন্য পরামর্শ দেয়। ডাক্তার বলে, দাম্পত্য জীবনে ঢুকে গেলে বাকি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সেই পরামর্শমতেই সে বিয়ে করেছে। ঔষধ চলছে,,,, কিছুটা সময় হয়তো লাগবে,,, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নুরুল্লাহ ভাই শান্ত হয়। শোভনকে বলে- পুরো বিষয়টি তোর বিয়ের আগেই আমাকে বলা উচিত ছিল। এরপর বলে, আমি তোর ডাক্তারকে ভরসা করতে পারছি না। তুই আমার সাথে আরো উন্নত হাসপাতালে উন্নত ডাক্তারের কাছে যাবি। যথারীতি নুরুল্লাহ ভাই বন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়। তারা ট্রিটমেন্ট শুরু করে। সময় যায়। কিন্তু কোনো ফলাফল আসে না। উন্নতিও হয় না। নুরুল্লাহ ভায়ের পরিবার শারমিনের এই দূরাবস্থার জন্য নুরুল্লাহ ভাইকে ক্রমাগত দোষারোপ করতেই থাকে। শোভনের প্রতি প্রত্যেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় নুরুল্লাহ ভাই এবং তার বাবা-মা শারমিনকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসে এই সম্পর্কের ইতি টানতে। শোভনকে ডিভোর্স দেওয়ায়ে তারা শারমিনকে দেখেশুনে আবার বিয়ে দিবে। একটা সুস্থ জীবন দিবে। সব শোনার পর আমি শারমিনের মতামত জানতে চাইলাম।
কিন্তু মেয়েটি প্রথমে কোনো উত্তর দিল না। চেম্বারে আসার পর থেকেই সে মাথা নিচু করে বসে আছে।
আমি বললাম, মাথা তুলো, আমার দিকে তাকাও, তোমার মতামত আমার জানা দরকার,,,
মেয়েটি আমার দিকে তাকালো,,,
দেখলাম, অল্পবয়সী, খুব সুন্দর দেখতে সে,,
বড় বড় চোখ ভর্তি পানি টলমল করছে,,,
আমি বললাম,  কাঁদছো কেন? ডিভোর্স দিতে চাও না?
মেয়েটি ধরা গলায় বলল- ভাইয়া ও বাবা-মার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত,,,
অতঃপর কাজী সাহেবকে দিয়ে তালাকের নোটিশ পাঠালাম এবং নোটারী পাবলিকের সম্মুখে ডিক্লেয়ারেশনের মাধ্যমে শারমিনের ডিভোর্সের কাজ সম্পন্ন করলাম। শারমিনকে বুঝিয়ে বললাম, ইদ্দতকালীন তিন মাস সময়ের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কর, হাসবেন্ডের সাথে মিলমিশ করে নিতে চাও তবে আমার চেম্বারে চলে এসো,,, সব কিছু ঠিক করে দিব।

শোভনকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছি আজ প্রায় আড়াই মাস হলো। হঠাৎ আজ চেম্বারে শারমিন এসে উপস্থিত। সাথে খুবই হ্যান্ডসাম একটি ছেলে। ইনি কে- জিজ্ঞেস করতেই বলল যে, তার হাসবেন্ড শোভন। জানতে চাইলাম, কেন এসেছো? শারমিন বলল, তারা একসাথে থাকতে চায়। তাই ডিভোর্সটা প্রত্যাহার করা জরুরী। আমি জানতে চাইলাম, শোভন সাহেব কি সুস্থ হয়ে গেছে? আর নুরুল্লাহ ভাই কিংবা তোমার বাবা-মা কই? উত্তরে শারমিন বলল, শোভন আগের চেয়ে আরো অসুস্থ। কিন্তু আমরা একে অন্যের সাথে থাকতে চাই। পরিবারের লোকজন তা চায় না। তাই বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি আপনার কাছে। আপনি আমার  ডিভোর্সটা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেন প্লিজ। অথবা আবার বিয়ে দিয়ে দেন।
আমি বললাম, তোমরা একসাথে থাকলে শোভন সাহেব ভালো হয়ে যাবেন- ডাক্তার কি এমন কিছু  বলেছে? উত্তরে শারমিন বলল, ডাক্তারের ট্রিটমেন্ট চলছে, তবে ডাক্তার কোন পজিটিভ আশা দেয় নাই।
আমি বললাম, "তাহলে তোমরা কেন এমন একটা অসম্পূর্ণ সম্পর্কে আবার ঢুকতে চাইছো? কোনো এক সময় এই সম্পর্ক বোঝার মত ভারী লাগবে।"
শারমিন বলল, "বিয়ের পরপরই যদি কোন দূর্ঘটনায় শোভনের এমন হতো তাহলে কি আমি শোভনকে ছেড়ে যেতাম? যেতাম না। অনেকগুলো প্রাপ্তি নিয়ে দাম্পত্য জীবন। এর মধ্যে দু/একটা প্রাপ্তি আমার অজানা ও অপাওয়া। তাতে কি!!  বাকিগুলো তো আমি পেয়েছি। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এটাই যথেষ্ট। ডিভোর্স নোটিশ পাঠাবার পর এই আড়াই মাসে অনেক ভেবে, বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আরো খানিকটা বুঝাবার চেষ্টা করলাম। দেখলাম, একসাথে থাকার জন্য তারা বদ্ধপরিকর। অবশেষে বললাম, "নুরুল্লাহ ভাইকে না জানিয়ে আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।"
শারমিন চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার হাত ধরে বলল, "ভাইয়া জানলে সব তছনছ করে দিবে। আমি পালিয়ে এসেছি। ভাইয়া আমাকে ধরে নিয়ে আটকে রাখবে। শোভনকে মারধর করবে। আপা আপনি আমার কাগজপত্র ঠিক করে দেন। আমি আর শোভন দূরে কোথাও পালিয়ে যাবো। আপা, চেম্বার থেকে চলে যাবার পর আপনি ভাইয়াকে জানান, প্লিজ।"
মেয়েটি হাউমাউ করে কাঁদছে। দেখলাম, শোভন মেয়েটির একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে।
কিছুক্ষন খুব ভালোলাগা নিয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবলাম, অতি তুচ্ছ নগন্য এই আমি মারাত্মক সুন্দর একটি প্রেমের সাক্ষী কেন হবো না!! অবশ্যই হব। অবশ্যই ডিভোর্স প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দিব। তাতে কেউ অখুশি হয়, হোক,,,
গল্পটি শেষ করে রবীন্দ্রনাথের দুটি পংক্তি না দিয়ে আর পারলাম না,,,,,,

ভুলিব ভাবনা,  পিছনে চাব না,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥
প্রবল পবনে তরঙ্গ তুলিল,    হৃদয় দুলিল, দুলিল দুলিল--
পাগল হে নাবিক,  ভুলাও দিগ্‌বিদিক,--  পাল তুলে দাও, দাও দাও দাও॥

,,,,,,,,মজার বিষয় হচ্ছে - রবীন্দ্রনাথ যেন জীবনের সকল পরিস্থিতি নিয়েই চমৎকার সব পংক্তি লিখে গেছেন,,,,,,

কোন মন্তব্য নেই:

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...