শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

DNA টেস্টের কোর্ট গল্প


স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর রফিক সাহেব কোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। আজ তার মামলার তারিখ ছিল। না, কোম্পানির কোন মামলা নয়। এটা তার নিজের ব্যক্তিগত মামলা। কিছুক্ষণ আগেই বিজ্ঞ বিচারক তার পক্ষে একটি আদেশ দিয়েছে। যদিও আদেশটি নিজের পক্ষে হবার পরও রফিক সাহেবকে খুব খুশি বা আনন্দিত দেখাচ্ছে না। উল্টো কেমন যেন দিশেহারা মনে হচ্ছে,,,, এখান থেকে আজকের গল্পঃ

দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার ছিল রফিক হামিদ ও শাওন হামিদের। ১৫ বছরের ছেলে 'রাব্বি' তাদের একমাত্র সন্তান। আর আট-দশটা সংসারের মতোই তাদেরও সংসার জীবন ছিল। কিন্তু সবকিছু তছনছ করে গত তিন বছর আগে রফিক সাহেবের সেক্রেটারি রায়হানের সাথে পালিয়ে গেছে তার স্ত্রী শাওন। সাথে নিয়ে গেছে প্রায় এক কোটি টাকা। যা কিনা ভালোবেসে রফিক সাহেবই নিজ স্ত্রীর নামে জমিয়েছিলেন। 



থানা পুলিশ করার কথা শাওন পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ভেবেছিলেন তিনি। দু-একদিন পর মাথা ঠান্ডা হলে নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছেন এই ভেবে- মান সম্মান যা গেছে তা তো আর ফিরে আসবে না বরং থানা পুলিশের দৌড়াদৌড়িতে ঘা আরো বাড়বে। ছেলে রাব্বি মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েছে। ছেলের পাশে থাকাটা বেশি জরুরি। তাই আর থানা-পুলিশ করে বাড়তি যন্ত্রণা বাড়াতে চাননি তিনি। কিন্তু অদৃষ্ট মনে হয় তখন পেছন থেকে হেসেছিল। কারণ তার দুর্ভাগ্যটাই খারাপ। দুর্ভাগ্য কোনভাবেই পেছন ছাড়ছিল না তার। 

তাইতো শাওন চলে যাবার ঠিক ছয় মাস পর শাওনের একটা ছেলে সন্তান হয়। কথাটা জানার পরই রফিক সাহেবের মাথায় প্রথম যে চিন্তা আসে তা হলো; বাচ্চাটির বাবা কে? উত্তরটাও সে জানে। বাচ্চাটি বাবা তার প্রাক্তন সেক্রেটারি রায়হান। 


এবার বুঝতে পারেন তিনি, কেন শাওনের এতো তাড়াহুড়ো!! তিনি বুঝতে পারেন যে, শাওনের আর দেরি করার মতো অবস্থা ছিল না। পাশাপাশি এটা ভেবেও তার প্রচন্ড আক্রোশ কাজ করতে থাকে যে, তারই বাড়িতে, তারই সংসার করা অবস্থায় তার স্ত্রী তারই সেক্রেটারির বাচ্চা গর্ভে ধারণ করেছে। কত্ত বড় জঘন্যতম কাজ এটা! আবার মনের ভেতর অন্য চিন্তাও আসে। মনে হয়- সত্যি যদি বাচ্চাটি রফিকের নিজেরই হয়, তবে! যদি ঐ বাচ্চাটি তারই ঔরসজাত হয়; তবে বাবা হিসেবে তার নাম থাকবে বাচ্চাটির পিতার স্থানে। অন্য কারো নয়।

এই চিন্তা থেকেই সে তখন একটি গার্জিয়ানশিপ মামলা করেছিলো আদালতে । মামলার এক পর্যায়ে আদালত তাদের চারজনের DNA  টেস্টের আদেশ দেয়- বাচ্চাটির, শাওনের,  রায়হানের এবং রফিক সাহেবের।

DNA টেস্টের আদেশ পেয়ে রফিক সাহেব  বুঝেছিলেন- বাচ্চাটির সাথে তার DNA মিলবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তারপরেও এইসব করে শাওনের তো একটা শিক্ষা দেয়া যাবে। ছেলে রাব্বি এবং সে যে যন্ত্রণা সহ্য করেছে, তার খানিকটা শাওনকে ফেরত দেয়া যাবে। DNA টেস্টে তার সাথে বাচ্চাটির মিলবে না হয়ত, কিন্তু এটা তো প্রমাণ হবে যে, বাচ্চাটির জন্ম অবৈধ। তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় শাওনের গর্ভে অন্যের বাচ্চা এসেছে। যাই হোক শাওনকে খানিক ঘায়েল করা যাবে সবার সামনে! এইসব চিন্তা করেই তিনি মামলাটি চালিয়ে আসছিলেন দীর্ঘ দুই বছর ধরে।



আজ DNA টেস্টের রেজাল্ট এসেছে। এতো খারাপ ভাগ্য রফিক সাহেবের যে, DNA টেস্টের রেজাল্ট অনুযায়ী বাচ্চাটির বায়োলজিক্যাল পিতা রফিক হামিদ। বিষয়টি জানার পর তার কেমন যেন দিশেহারা লাগছে। কি করবেন বুঝতে পারছেন না।নিছক আক্রোশের বশে তিনি মামলাটি করেছিলেন। এতোদিনে বাচ্চাটিকে ভালো করে দেখেনই নি পর্যন্ত।

বাচ্চাটির বয়স আড়াই বছর। শাওন বাচ্চাটিকে কোলে করে আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে রফিক সাহেবের। এরা তার নিজের স্ত্রী, নিজের বাচ্চা!! যা কিনা কোনটাই এখন তার না। সেই স্ত্রী, যে কিনা ডিভোর্স না নিয়েই অন্যের সাথে চলে গেছে। আর বাচ্চাটাতো তাকে চিনেই না। রফিক সাহেব আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাচ্চাটিকে কোলে নিতে এসেছে। ছোট্ট বাচ্চাটি কিছুতেই রফিক সাহেবের কোলে যাবে না। মায়ের গলা জড়িয়ে আছে। রফিক সাহেব কি বলবেন বা কি করবেন বুঝতে পারছেন না। তারপরও নিচু স্বরে বলছেন, সোনাবাবা একবার কোলে এসো, একবার আমার দিকে তাকাও, সোনাবাবা এসো চকলেট কিনে আনি, বাবা আমি তোমার,,,,,,,,,,,,

মামলাটি চলমান। হয়তো বাচ্চাটির গার্জিয়ানশিপ রফিক সাহেবই পাবেন।  সব কিছু দেখে বাচ্চাটির জন্য মায়াই লাগতে লাগলো। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠাতে তার কোন হাত নেই। কিন্তু তার সত্যি-মিথ্যে বাবা-মায়েদের এই অদ্ভুত জীবনবোধের জন্য বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ জীবনের ছন্দ নষ্ট হলো- এটা তো স্পষ্ট। চাই না- কোন বাচ্চা এই টানাপোড়েন সম্পর্ক নিয়ে বড় হোক। প্রতিটি সন্তান নিজ নিজ বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়ায় ঘুমাক এবং ঘুম থেকে জেগে উঠুক। আর এটা তার অধিকারও

কোন মন্তব্য নেই:

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...