আমি নিজের আগ্রহের জন্য ঐ বয়স্ক পুলিশ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই, আপনি কি আলামত নিয়ে এসেছেন?
পুলিশ ভাই তার পাশে রাখা একটা বড় কালো রঙের ব্যাগ দেখালেন। আমি এতো বড় ব্যাগটা দেখে অবাকই হলাম। কারণ আলামতের প্যাকেটগুলো সাধারণত ছোট ছোট হয়। আর ঐসব ছোট প্যাকেটে মাদকের আলামত থাকে। সেখানে এই প্যাকেটটা বেশ বড়। তাই আরো কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলাম, কি আছে ভেতরে?
উনি কোন উত্তর না দিয়ে ব্যাগের চেন খুলে, খানিকটা ফাঁকা করে দেখালেন,
দেখলাম ভেতরে দারুণ কিছু শাড়ি। শাড়িগুলো বেশ দামীও মনে হলো। আমার আগ্রহ আরো বেড়ে গেলো। আমি ঐ পুলিশ ভাইকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলাম,,,,
ভাই, ব্যাগের ভেতরের শাড়িগুলি কি চুরির আলামত? কেউ চুরি করে ধরা পড়েছে? তাই, শাড়িগুলো জব্দ করেছেন?
পুলিশ ভাই হেসে বললেন, "না"।
আমিঃ চুরির না? তবে কি ডাকাতি? আজকাল মানুষজন শাড়ি ডাকাতি করে!!! এটা ডাকাতি করার মতো জিনিস!!
পুলিশ ভাইঃ এবারও হেসে বললেন, "না। এগুলো ডাকাতির জিনিসও না"।
নাছোড়বান্দা আমি আবারো বললাম,,,
,,,, তবে কি অবৈধ কাজের অপরাধে কোন দোকান থেকে শাড়িগুলো জব্দ করেছেন?
এবার পুলিশ ভাইকে খানিক বিরক্ত দেখালো। তিনি বলেলেন,,,,
,,,, ম্যাডাম, এই অপরাধটা অনেক বড় অপরাধ। বড় ব্যাপার।
আমিঃ চুরি না, ডাকাতি না, অবৈধ কাজও না; আবার বলছেন, অনেক বড় অপরাধ, বড় ব্যাপার। তবে কি ধরনের অপরাধ হতে পারে?
পুলিশ ভাইঃ শাড়িগুলি ভরা অনেক চুমকি,পাথরের ঝিলমিলি কাজ তো দেখলেন। ঐ চুমকি,পাথরের গুলোর সাথে কিছু ছোট ছোট গোল্ড এর পাথরও ছিল। সবগুলো শাড়ি থেকে প্রায় ১৯ কেজি সোনার পূথিপাথর জব্দ করা হয়েছে! এই মামলার আসামী মহিলা। যিনি শাড়িতে সোনার চুমকি,পাথর লাগিয়ে সোনা চোরাচালান করতে যেয়ে ধরা খেয়েছে। তাই শাড়িগুলো কোন চুরি বা ডাকাতির আলামত না; সোনা চোরাচালানের আলামত। বুঝলেন তো??
,,,,,,আমি বুঝলাম। তবে ভীষণ অবাক হয়েই পুলিশ ভাইকে বললাম-
,,,,,,আবার একটু ব্যাগের চেনটা খুলেন তো। সোনার শাড়ি আরো একবার দেখি।
উনি আবারও একটুখানি দেখালেন। আমিও দেখলাম,,, সোনার পাথরগুলো নেই। সেগুলো পুলিশ আগেই খুলে নিয়েছে। এরপরও বোঝা যাচ্ছে শাড়িগুলো খুব সুন্দর। সোনার শাড়ি বলে কথা!!
ঘটনা তো শুনলেন। এবার বুঝেন,সোনা চোরাকারবারির কি ব্রেন!! কতগুলো মানুষ এই সোনার চুমকি পাথরের সাথে সম্পৃক্ত। পাথর গুলো বানানোর কারখানা, সুই-সুতা বা আঠা দিয়ে লাগানো, প্যাকেট বানানো। তারপর চালান করা।চোরাচালানের সংঘবদ্ধ বিরাট চেইন। শাড়িতে তো চুমকি পাথর থাকতেই পারে। দারুণ আইডিয়া!!
যে ধরা পড়েছে সে হয়তো এই চোরাকারবার চেইনের ক্ষুদ্র পুঁটিমাছ। রুই, কাতলা, বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে থাকে। আর যদি ধরাও পড়ে, সেক্ষেত্রে দু'একটা সোনার শাড়ি উপহার দিলেই কেল্লাফতে,,,,
এরপরও, যে অফিসাররা এই দারুণ আইডিয়ার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে অপরাধীদেরকে ধরেছেন;আইনের মুখোমুখি করেছেন; তাদেরকে অন্তর থেকে জানাই স্যালুট,,,
যাই হোক,,,
সারাদিন, নিজের কাজকাম ভুলে, মন পড়ে রইল ঐ শাড়িগুলোর মাঝে,,,
সোনার শাড়ি বলে কথা!!
ইস!!
যদি একবার পরতি পারতাম!!!
পইরে সবাইরে দেখাইতে পারতাম!!
তাইলে কতো কি হইতো!
কি হইতো? কি হইতো??
,,,ছাই হইতো!!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন