"প্রকৃতির প্রতিশোধ "
মহান আল্লাহ মানুষকে বানিয়েছেন আশরাফুল মাকলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব । আর আসমান, জমিনসহ সব সৃষ্টিকে আমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন আমাদের আরাম আয়েশের জন্য। বারবার বলেছেন তার সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখাতে,,,,
অথচ আমরা যা করছি,,,,,,,
,,,,,,শেষ কবে পেছন পেছন আসা রাস্তার কুকুরটিকে কিছু খাবার দিয়েছি!!!বাড়ির সিঁড়ির নিচের বিড়ালটিকে কি দিয়েছি প্লেটের পাশে রাখা কাঁটাগুলো!!! বারান্দায় গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে একমুঠো ভাত কি ছড়িয়ে দিয়েছি চিৎকার করে কা কা ডাকা কাকের জন্য!!! শেষ কবে বাড়ির গরুটির পিঠ ডলে বলেছি, "কি রে কেমন আছিস"!!! আমরা কি আমাদের বিল্ডিংয়ে চড়ুই পাখিকে খড়কুটো দিয়ে বাসা তৈরি করতে দেই !!! বাবুই পাখির বাসা বুনার জন্য কি যথেষ্ট তালগাছ রেখেছি!!! প্রতি বসন্তে কি একবারও কোকিলের মিষ্টি ডাক শুনতে চাই!!! নিজের সন্তান, যে কিনা বইয়ের ছবি দেখে জাতীয় পাখি আঁকা শিখছে, তাকে কি সত্যি সত্যি পরিচয় করে দিয়েছে জাতীয় পাখি দোয়েলের সাথে!!! ট্রেনে যেতে যেতে কখনো কি বাচ্চাদের গুনতে শিখিয়েছি টেলিফোনের তারে কতো কতো শালিক বসে আছে!!! প্রচন্ড খরার তাপদাহে এসির ঠান্ডার মধ্যে বসে বারবার লিকুইড খাই আমরা; অথচ কোন পশুপাখির জন্য কি সামান্য পানি রেখেছি কোথাও!!!নদীর পানিতে মিশিয়ে দিচ্ছি আমাদের কারখানার বর্জ্য; একবারও কি ভেবেছি, আহারে কতো রকম প্রাণীর বসবাস ঐ পানিতে!!! সাগরে, নদীতে ছুড়ে ফেলছি পলিথিন, বোতল। আমরা কি জানিনা এগুলো পরিষ্কার করা কতো কঠিন!!! কাঠের গাছের কথা বাদই দিলাম, শেষ কবে একটা ফলের গাছ লাগিয়েছি!!! এই গ্রীষ্মে প্রচন্ড তাপে আর বৃষ্টির অভাবে আমাদের চারপাশের ছোট গাছগুলো মৃত প্রায়, দিয়েছি কি সামান্য পানি!!! পাহাড়, বনভূমি উজাড় করেছি, সাথে উজার করেছি বনের পশুপাখি। একবারও কি অক্সিজেনের উৎস বাড়ানোর চেষ্টা করেছি!!!
আসলে আমরা কিচ্ছু করিনি প্রকৃতির জন্য, পশুপাখির জন্য, প্রাণীর জন্য,,,,,
বরং স্রষ্টার সৃষ্টিকুল শুধু দেখেই যাচ্ছে আমাদের নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা,,,, এই জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। দেওয়ালে যে তার পিঠ ঠেকে গেছে! তাকে তার অস্তিত্ব টিকাতে হবে। হয়তো তাই সে প্রতিশোধ নিচ্ছে। ব্যবহার করছে নিজস্ব অস্ত্র। তাই তো সে ছড়িয়ে দিয়েছে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসকে আশরাফুল মাকলুকাতের মাঝে। কই, আর তো কোন প্রাণী মরছে না। প্রকৃতিরও কোন ক্ষতি হচ্ছে না। বরং এই করোনাকালীন সময়ে প্রকৃতি মেলে ধরছে নিজেদেরকে। ভর ভরন্ত তারা। ভয়ঙ্কর আক্রোশে শুধু ঘায়েল করছে আমাদেরকে,,,
দুটি গল্প দিয়ে শেষ করি আজকের বক্তব্য,,,,,,,,
এইচ এস সির ইংরেজি বইয়ে the Ancient Mariner মোটামুটি সবারই পড়া। সেই বৃদ্ধ নাবিক, যে কিনা তাদের জাহাজে আসা সৌভাগ্যের প্রতীক আলবাট্রস পাখিকে হত্যা করে। অভিশপ্ত হয় বৃদ্ধ নাবিক। তারই ফলশ্রুতিতে জাহাজটি পড়ে ভয়ঙ্কর দুর্যোগে। মাথার উপর গনগনে সূর্য নিয়ে মধ্য সাগরে স্থির হয়ে জাহাজটি দাঁড়িয়ে থাকে দিনের পর দিন। একে একে মৃত্যু হয় জাহাজের অন্য সকলের। ঘুম নেই, খাবার নেই, পানি নেই, অসংখ্য মৃত মানুষের মধ্যে কিলবিল করতে থাকে সাগর থেকে উঠে আসা ঘৃন্য পিচ্ছিল সাপ। অভিশপ্ত বৃদ্ধ নাবিক নিজের মৃত্যু কামনা করার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। ঠিক ঐ সময় সে খেয়াল করলো সাপগুলোর গায়ের রং বেশ সুন্দর। সাপগুলোর জন্য সে ভালোবাসা অনুভব করলো। সেগুলোর জন্য মঙ্গল কামনা করলো ঈশ্বরের কাছে। ঠিক তখনই বৃষ্টি নামলো। জাহাজ চলতে শুরু করলো। অর্থাৎ বৃদ্ধ নাবিক অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলো স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের কারনে।
এবার কোন গল্প নয়,,,সত্যি ঘটনা,,
চড়ুই ফসলের ক্ষতি করে, এ ভ্রান্ত ধারণায় ৫০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান মাও সে তুংয়ের নির্দেশে লাখ লাখ চড়ুই নিধন করা হয়। কিন্তু এমন অন্যায় সহ্য করেনি প্রকৃতি, ফলে শুরু হলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। চার–পাঁচ বছরের মাথায় চড়ুইয়ের অভাবে শস্যক্ষেত্রে পোকামাকড়ের বিধ্বংসী আক্রমণে খাদ্যসংকটের কবলে পড়ে চীন। দুর্ভিক্ষে মারা যায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ। এরপর আবার শুরু হয় চড়ুই রক্ষার আন্দোলন।
তাই বলছি, আমাদের অধীনস্থ এই সকল সৃষ্টির জন্য কিছু করি, তাদেরকে ভালোবাসি, তাদের মঙ্গলের জন্য একটু হাত বাড়াই। মহান রব অত্যন্ত মমতায় গড়েছেন এই মহাবিশ্ব। বিনা প্রয়োজনে তিনি কিছুই সৃষ্টি করেননি। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনোভাবে এই উপাদানগুলোর কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, নষ্ট হয় পরিবেশগত ভারসাম্য। যার ফল হয়তো এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র করোনা ভাইরাস। আমাদের ভুলের জন্য, নির্মমতার জন্য লজ্জিত হই প্রকৃতির কাছে আর নতজানু হয়ে ক্ষমা চাই স্রষ্টার কাছে, মুক্তি চাই এই ভয়ঙ্কর করোনার গ্রাস থেকে,,,



1 টি মন্তব্য:
Nice
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন