শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

নব্বই দশকের সিনেমা

"নব্বই দশকের সিনেমা"


সিনেমা হলে যেয়ে সিনেমা দেখার মজাই আলাদা। আর যদি তা হয় কয়েকজন বন্ধু বান্ধব/ভাই-বোন  মিলে তবে ডাবল মজা। আর পালিয়ে সিনেমা দেখা তো পুরাই থ্রিল।

আমার বাড়ির সাথে দুইটা সিনেমা হল।বহুত পালিয়ে সিনেমা দেখেছি। রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের Kazi Tutul স্যারের ভূগোল প্রাকটিক্যাল ক্লাস বাদ দিয়ে ১৫/১৬ জন বন্ধু চলে গেছি সিনেমা দেখতে। এক সিরিয়ালে বিশাল লাইনে বসেছি। পছন্দের সিন এলেই ১৫/১৬ জনের একসাথে  হৈচৈ আর গল্প। পুরো হলে দর্শক বিরক্ত হয়ে বলে আপনেরা গল্প করতে আইছেন না সিনেমা দেখতে। টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি; আমাদের সিনেমা দেখতে দেন। কে শোনে কার কথা!!!! এমন একটা অবস্থা দাঁড়ালো যে, দর্শক সিনেমা দেখা বাদ দিয়ে আমাদেরকেই দেখতে লাগলো। এরপর সিনেমা দেখে আবার যথারীতি একজন একজন করে ক্লাসে ঢুকেছি। কিছুক্ষণ পর টুটুল স্যার বললেন, ক্লাসে কেমন যেন বাজে গন্ধ। আমরা না বোঝার ভান করলাম। বুঝেই বা কি করবো। কারণ সকলের গা থেকে আসছিল বিশ্রী রকম সিনেমা হলের সিগারেটের গন্ধ।

প্রথম পালিয়ে সিনেমা দেখেছি ১৯৯৩ সালে "কেয়ামত থেকে কেয়ামত"। সম্প্রচারের প্রথম দিনই বসুন্ধরা সিনেমা হলে ছিল প্রচন্ড ভীড়। তখন টিকিট পাওয়া এমনকি সিনেমা দেখার সময় বাদাম কিংবা পেপসি পেতাম সহজেই। কারণ পাড়ায় তখন অনেক শুভাকাঙ্খী ছিল। তিনটার শো তে সিনেমা দেখার জন্য টিকিট কেটে আমি ও আমার মামাতো বোন দাঁড়িয়ে আছি এক কর্নারে যাতে বাড়ির কারোর চোখে না পড়ি। এগারোটার শো ভাঙলে ভেতরে ঢুকবো। শো ভাঙলো। দর্শক বের হচ্ছে। হঠাৎ দেখি ঐ দর্শকের মধ্যে থেকে আমার এক বড় ভাই (কাজিন) বের হয়ে এলো। তার হাতে কলেজের বই, খাতা ও লম্বা কাঠের স্কেল। ধরা খেয়ে গেলাম। সে সোজা আমার দিকে এলো। কাঠের স্কেল দিয়ে ঠাস করে জোরে আমার পিঠের মধ্যে মেরে জিজ্ঞেস করলো কার সাথে এসেছি। আমি আমার মামাতো বোনকে দেখালাম কিন্তু তবুও ঐ ভাই হম্বিতম্বি করতে লাগলো, বলল তোর মাকে বলে মার খাওয়াবো। মজার ব্যাপার সে নিজেও বাড়িতে না বলেই এসেছে অথচ আমার বেলায় এতো শাসন। বাড়িতে বলে দেবে এই ভয়, সাথে স্কেলের বাড়ি ও বকা খেয়ে খুব মন খারাপ করে ""কেয়ামত থেকে কেয়ামত" সিনেমাটা দেখলাম।  শেষের ট্রাজেডি সিনে দ্বিগুন মন খারাপ হলো।অসাধারণ সিনেমা। আসলে বাংলাদেশের সিনেমার স্বর্ণযুগ ছিল নব্বই এর দশকেই।


আরে কতো সিনেমা দেখেছি তখন চাঁদনি, বিষের বাঁশি, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমনি, অন্তরে অন্তরে, দেনমোহর, বিশ্বপ্রেমিক, 

দোলা’, সুজন সখি, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘ ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, আরো কত নাম,,,,,,,

আমার সিনেমা দেখার অন্যতম সঙ্গী হলো ছোট্ট বেলার বন্ধু Lubna Hasanরিমা।

বাচ্চাদের নিয়ে সবাই মিলে সবশেষে বলাকা সিনেমা হলে বাংলা গেরিলা সিনেমা দেখেছি। খুব সুন্দর সিনেমা। বাচ্চারা মাঝে মাঝে আয়োজন করে ইন্টারনেটে টিকিট কেটে  সিনেপ্লেক্সে বা ব্লকবাস্টারে যেয়ে থ্রিডি ইংলিশ মুভি দেখে।

আমরা যে কত্ত মজা করে কত্ত সুন্দর সুন্দর সিনেমা দেখেছি এখনকার ছেলেমেয়েরা আমাদের সময়ের ঐ ফ্লেভার বুঝবে না। এখন তো সিনেমা হলও নেই আবার সেই চমৎকার কাহিনি সমৃদ্ধ সিনেমাও নেই। সাকিব আর জয়া ছাড়া অন্যান্য নায়ক, নায়িকাদেরকেও চিনি না। বিখ্যাত সব সিনেমা হল ভেঙ্গে সেসব জায়গায় তৈরি হচ্ছে সপিং মল।

এভাবেই হয়তো পুরাতন প্রযুক্তি, পুরাতন রুচি, পুরাতন সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, আসে নতুন প্রযুক্তি, নতুন সভ্যতা, নতুন রুচি,,,,,,, 

বিঃ দ্রঃ কাঠের স্কেল দিয়ে পিটানো ঐ বড় ভাই হলেন আমার পতি দেবতা Shipu Kazi


,,,

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...