দুপুরের খাওয়ার পর কেবল মাত্র চোখটা লেগেছে কানে এলো সুর করে আনোয়ার ফেরিওয়ালা বিশাল হাক ছাড়ছে এ,,,,,ই ভাঙা,,,, চু,রে,,, বেচ,,,বেন,,, ভাঙা,,,, চু,রে,,,
আমার চাচী তার গেট খুলে বের হয়ে এসে ফেরিওয়ালার চেয়েও জোরে চিৎকার করে বলল, হারামজাদা এই ভর দুফুরে তুই ভাঙা চুরে বেচবেন বলে মরিতেছিস ক্যা রে? যদি দুফুুর বেলা আবার তোরে দেখি তাইলে তোরেই জ্যান্ত ভাইঙে,,,, ভাইঙে,,, ব্যাচবো,,,,,,, ভাগ হারামজাদা,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
রাত থম থম স্তব্ধ,
ঘোর-ঘোর-আন্ধার,
নিশ্বাস ফেলি,
তাও শোনা যায়,
নাই কোথা সাড়া কার,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আমার বাড়ীতে ঘুমবো আর এমন রাত পাবো এটা স্বপ্ন!!!! অবিরাম গাড়ির শব্দ, হর্ণ, ধুমধাম আওয়াজ, হৈচৈ, ঝলমলে আলো নিয়েই আমরা পরম আনন্দে নিশ্চিন্তে ঘুমাই,,,,,
তাস বা ক্যারাম খেলায় হেরে ছোট ভাই পাজি প্লাবন সিঁড়িতে রাখা অন্য সব খেলোয়াড়ের সেন্ডেল ফেলে দিয়ে উধাও। সেন্ডেলগুলো খুঁজে খুঁজে কখনো খালের মধ্যে তো কখনো ড্রেনের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা,,,,,
পাশের বাড়ী ডলি পিসিদের বড়ই গাছে ঢিল ছুড়লেই বুড়ি দিদার চিৎকার,,,,,, এই ঢিল ছোড়ে কিডা রে,,, ধর তো,,,,,,,,,,,,,,দৌড়ে বাড়ীতে পালানো,,,
বন্ধু -বান্ধব, চাচাতো, পাড়াতো ভাইবোন মিলে হুদাই পিকনিকের আয়োজন করা। শেষমেশ সম্পূর্ণ রান্নার দায়িত্ব ছোট চাচী আম্মার ঘাড়ে ফেলে নিজেরা নাচানাচি করা। হয়তো ছোট চাচীআম্মা বেচারা আমাদের ঐ আজেইরা পিকনিকের কেউই না। অথচ পরম মমতায় অমৃত স্বাদে তিনি আইটেম গুলো রেঁধেছেন,,,,,
লিচুর সময় লিচুয়াল গাছে লিচু ভাঙছে। নিচে আমরা সব ভাইবোন বিশাল বড় ধামা ভর্তি লিচু নিয়ে লিচুু খাওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। কোচেরে লিচুর বীচি। বিচীগুলি মহা মূল্যবান। কোনোভাবেই তা যেন হাতছাড়া না হয়। কারন প্রতিযোগিতা শেষে বীচির সংখ্যা গাননা করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় নির্বাচিত হবে,,,,,
উপরের সবগুলোই আমার বাড়ীর গল্প,,,,,,,,,
রাজবাড়ী জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র বড়পুল মোড়ের "দুদিন প্রবাস" কবিতা লেখা বাড়ীতে আমার জন্ম।
কি নেই আমার বাড়ীতে,,, আমার রাজবাড়ীতে,,,
ভালো লাগা আছে, খারাপ লাগা আছে, ঝগড়া আছে, ভালোবাসা আছে
হয়তো নিজ বাড়ীর ভালোমন্দ সবকিছু নিয়েই সম্মোহনীয় আকর্ষণ সব মানুষেই থাকে,,,,,
সেখানে আমি তো অতি নগন্য,,,,,,
তাই লকডাউনের লককে খানিকটা বেআইনিভাবে ভেঙেই ফেললাম,,,,
রাজবাড়ী চলে এলাম,,,,
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন