জাহিদের গত সাত দিন ধরে জ্বর। করোনা পজেটিভ হয়েছে। থেমে থেমে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট খানিকটা বাড়লে গ্রামের বাড়ী থেকে জেলা শহরের সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলো। বহুত ঝামেলার পর তারা করোনা ইউনিটের কাছাকাছি যেতে পারলো। সেখানে যাবার পর ডাক্তার কি সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলো। তখন জাহিদের তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, আর,,, তা এমনিতেই বোঝা যাচ্ছিল । ঐখানেই ডাক্তার তার অক্সিজেন দিল। জাহিদ আরাম পেলো। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কাহানী শুরু হলো এর পর থেকে,,,,,, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তার বলল- ভয় পাবার কিছু নেই। বাড়ী চলে যান। আলাদা থাকেন। প্রেসক্রিপশন করে দিয়েছি, সেই অনুযায়ী ঔষধ খান। গরম পানি খান ও ভাপ নেন। বেশী প্রোটিন খাবেন। আর চৌদ্দ দিন পর আবার করোনার টেস্ট করাবেন। এখন বাড়ী চলে যান,,,,
জাহিদ তো অবাক; কি বলছে এরা,,
সে বলল- আমি তো হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছি। বাড়ী যাবো কেন? আমার তো অনেক শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, অক্সিজেন দেওয়াতে আরাম পাচ্ছি। আমি ভর্তি হবো,,
ডাক্তার বলল, আমাদের এখানে করোনার জন্য আলাদা কোন সিট নেই। আর করোনার কোন আলাদা ট্রিটমেন্টও নাই। যত্নই এর ট্রিটমেন্ট। বরং আপনি এখানে ভর্তি হলে কোন যত্ন হবে না। অযত্নেই আপনি মারা যাবেন। তারচেয়ে বাড়ী চলে যান। জাহিদ বলল, বাড়ীতে তো অক্সিজেন নাই,,,,
কিন্তু তারা কোনভাবেই জাহিদকে ভর্তি নেবে না।
অবশেষে জাহিদের মামা বহুত কাঠখড় পুড়িয়ে চেয়ারম্যান ও এমপি সাহেবের সুপারিশ নিয়ে ভর্তি করেতে পারলো।
একজন ওয়ার্ড বয় জাহিদকে করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে এলো। ভেতরে মাত্র তিনজন রুগী আর বাকি সব সিটই খালি। ততক্ষণে জাহিদের আবারও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। ওয়ার্ড বয় একটা সিলিন্ডার এনে অক্সিজেন লাগিয়ে দিল আর দেখিয়ে দিলো- যখন না নিতে চাইলে ওটা কিভাবে বন্ধ করবে।
একদিন, একরাত কিভাবে কেটেছে জাহিদ জানেনা। এ পর্যন্ত কোন ডাক্তার এসেছে কিনা, ঔষধ খেয়েছে কিনা তাও টের পাইনি। জাহিদ খেয়াল করলো, তিনজন রুগীর মধ্যে একজন রুগীর সাথে একজন মহিলা অবিভাবক আছে। সে রোগীকে কমলা খাইয়ে দিচ্ছে এবং অন্য রুগীটি বয়স্ক। তার সাথে কেউ নেই। সম্ভবত তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। ওয়ার্ডের ভেতর কেমন যেন বিশ্রী গন্ধ। মহিলা জাহিদের কাছে এসে বলল, উঠে কিছু খাবার খাও,,,, ঔষধ খাও,,, আর পারলে আমার সাথে এসো; ঐ বয়স্ক রুগীটি পায়খানা প্রস্রাব করে গত দুই দিন ধরে তারমধ্যেই রয়েছে। উনার কোন আত্মীয় স্বজনকে দেখছি না। হাসপাতালের কেউ পরিষ্কার করছে না। ওয়ার্ড বয়, আয়া, নার্স, ডাক্তার কেউই আসে না। দেখেও না। বেচারার অবস্থা খারাপ। যদি তুমি একটু সাহায্য করো তো আমি উনাকে পরিষ্কার করে দেই।
জাহিদ আর মহিলা ধরাধরি করে লোকটিকে পরিষ্কার করলো।
এই হলো জেলা শহরের সদর হাসপাতালের চিত্র,,,,
জাহিদরা এখনো হাসপাতালে আছে। দোয়া করি তারা তাড়াতাড়ি সুস্থ হোক,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অতএব,,,,,,, সাবধানে থাকি, ঘরে থাকি, বারবার হাত ধুই, নিজে করোনা মুক্ত থাকার চেষ্টা করি ও নিজের পরিবারকে রক্ষার চেষ্টা করি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন