১৫ তম পারিবারিক আদালত, ঢাকা। বিচার কার্যক্রম আজকের মত শেষ। বেলা প্রায় তিনটা দিকে,,, কোর্টে ভেতর নিজের কাজ শেষ করতে গেছি; হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার ঠিক পেছনের বেঞ্চে বসে একজন মহিলা আকুল হয়ে কাঁদছে। ভাবলাম হয়তো মামলায় ঠকে গেছে তাই। মহিলাকে সান্ত্বনা দেবার জন্য বললাম, মন খারাপ করেন না, নিশ্চয় আল্লাহ ভালো কিছু করবেন। আর, এই কোর্টে হেরেছেন বলে একেবারে হেরে গেছেন এমন নয়, আপনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। সেখানেও মামলা ফাইট দিতে পারবেন। আমার কথায় মহিলা শান্ত না হয়ে আরো যেন বেশি মাত্রায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ঠিক তখন সামনে থেকে ঐ কোর্টের পেশকার বললেন, উনি কাঁদুক, কাঁদতে দেন। পেশকারের কাছ থেকেই জানলাম ৫/৬ বছর ধরে মহিলা তার প্রাক্তন স্বমীর বিরুদ্ধে কন্যা সন্তানের ভরনপোষণ ও গার্জিয়ানশীপের মামলা পরিচালনা করে জিতে কন্যাকে নিজের কাছে পেয়েছিলেন কয়েক মাস আগে। তাতে মাকে পেয়ে কন্যাও খুশি হয়েছিল। অথচ মা আজই কন্যাকে ঐ প্রাক্তন স্বামীর নিকট ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। তার কারন, তিনি বলেছেন মেয়ের ভালোর জন্যই মামলাগুলো করেছিলাম, প্রতি মাসে ভরনপোষণের টাকা নিচ্ছিলাম। কিন্তু আমি চাইলেও মেয়ের ভালো করতে পারছিলাম না আমার বর্তমানের দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে। তাই মেয়েকে তার বাবার কাছেই ফেরত দিচ্ছি।
বুঝলাম, মহিলার আবার সংসার হয়েছে। সেখানে হয়তো বাচ্চা-কাচ্চা আছে, ঐ বাচ্চাদের মতো হয়তো এই বাচ্চার যত্ন হয়নি। হয়তো ভরণপোষণের জন্য পাওয়া টাকাও যথাযথভাবে এই কন্যার জন্য খরচ করতে পারছিলেন না,,,, হয়তো আজ যাবার সময় মাকে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট মেয়েটি চিৎকার করে কেঁদে বলেছে,,, মা আমি তোমার কাছে থাকতে চাই,,,,
মহিলা কেঁদেই যাচ্ছে। কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম,,,
বাকরুদ্ধ আমি কোর্ট থেকে বের হয়ে এলাম,,,,,, মনে মনে বললাম- আহারে,,,, আহারে,,,
1 টি মন্তব্য:
Good
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন