শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

পহেলা বৈশাখ

 পহেলা বৈশাখ

বাংলা সাল সম্ভবত ১৪২১ 

রাজবাড়ীর মার্কেটে আব্বু আমাদের সবার জন্য বৈশাখের কেনা কাটা করতে নিয়ে গেছেন। যথারীতি সবার শেষে শেফার জন্য কিনবো। কারণ, তারটা কেনা হয়ে গেলেই সে কান্নাকাটি করে বলবে সে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, ঘুমার্ত, পরিশ্রান্ত; অতএব সে বাড়ী যাবে। আর শেফারটা না কেনা পর্যন্ত তারটা কখন কিনবো,,,, এখনো কেন কিনছি না,,,, কেমন ড্রেস কিনবো,,,, তার কথা ভুলে গেছি কিনা,,,, দুনিয়ার প্রশ্ন করে করে মাথা নষ্ট করে দেবে। যদিও আমি কিছুক্ষণ পরপর বিভিন্নভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে হুমকি দিই। তবে তার প্রভাব কয়েক সেকেন্ডেই কেটে যায়। উল্টো সে আমাকে বিভিন্ন হুমকি দেয়। যেমনঃ আমি ড্রেস কিনবো না,,,, আমি বাসায় চলে যাবো,,,, ড্রেস কিনলেও পরবো না,,,,, কোন চয়েজ বলবো না,,, ইত্যাদি,,,,ইত্যাদি,,,,,,


একসময় শেফার জন্য ড্রেস চয়েজ করা হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের একটা থ্রি-পিস শেফা চয়েজ করলো। আমি হাতে নিয়ে দেখে শুনে বললাম এর থেকে দুই সাইজ বড়টা থাকলে দেন। দোকানী বলল ঐটাই লাস্ট সাইজ। অতএব ঐ থ্রি-পিস বাতিল। কিন্তু শেফা নাছোড়বান্দা। সে ঐটা নেবেই। আমাকে ব্লাকমেইল করার জন্য নিজের গায়ের পরা জামাটাও খুলে ফেলল সে। আরো বলল- যদি ঐটা কিনে না দাও তবে জামাই পরবো না। আমি দোকান থেকে বের হয়ে আব্বুকে বললাম- চলেন, অন্য কোথাও দেখি। তখন শেফা খালি গায়ে দোকানের সামনের রাস্তায় শুয়ে পড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো ঐ জামাটা নেবার জন্য। আমি বিরক্ত হয়ে আব্বুকে বললাম- ওকে ফেলে রেখেই চলেন তো। ও রাস্তায় গড়াচ্ছে, গড়াক; চিৎকার করছে; করতে দেন- বলে চলে এলাম এবং অন্য দোকানে ঢুকে ড্রেস দেখতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরেই দেখি ঐ ছোট টাইট থ্রি-পিসটা গায়ে দিয়ে শেফা হাসতে হাসতে তার নানাভায়ের হাত ধরে আসছে। আব্বু আমাকে বলল, ওর গায়ে তো ঢুকেছে, একবার পরলেই হবে। তুমি আর রাগ করো না,,,

আমার কন্যা তো মহাখুশি ঐ ছোট্ট টাইট ড্রেস পরে,,,

তার ভাবভঙ্গি এমন- মা খুব খারাপ কিন্তু নানাভাই মহান। অবশ্য তার নানাভাই তার কাছে সবসময়ই মহান, কারণ, নানাকে সহজেই ফাঁদে ফেলা যায়,,,,,,,


যাই হোক তখন বাচ্চাদের নানাভাই বেঁচে ছিলেন, পৃথিবী সুস্থ ছিল, অফিস আদালত খোলা ছিল, আয়-রোজগার স্বাভাবিক ছিল, পকেটে পয়সা ছিল, পহেলা বৈশাখ পালনের আয়োজন ছিল, কেনাকাটা ছিল, বৈশাখী মেলা ছিল,,,,,,, 

আর এখন বাচ্চাদের নানাও বেঁচে নেই, গত দুই বছর যাবৎ পৃথিবী সুস্থ নেই, অফিস আদালত খোলা নেই, আয় রোজগার নেই, পকেটে পয়সা নেই, পহেলা বৈশাখ পালনের আয়োজন নেই, কেনাকাটা নেই, বৈশাখী মেলাও নেই,,,,,,, 

লকডাউনে ঘরে আছি, থাকবো,,,,,, 

বেঁচে থাকলে, আমার দেশ ও পৃথিবী সুস্থ হলে, করোনা মুক্ত হলে আবারও বাচ্চারা কেনাকাটার ঘ্যানঘ্যানানী করবে, পহেলা বৈশাখ আনন্দময় হবে ইনশাআল্লাহ,,,,


আবার আমরা লাল শাড়ী পরে, খোঁপায় ফুল লাগিয়ে  একসাথে হাঁটবো আর  সুরে-বেসুরে চিৎকার করে গাইবো,,,,,,,,, ,,,,,,,,, ,,,,,,,, ,,,,


"মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা

অগ্নি স্নানে সুচি হোক ধরা

,,,,,, এসো হে বৈশাখ এসো এসো"

Haha

মুভি রিভিউঃ "৯৬"

  "৯৬" সিনেমাটি দেখার পর মুভি রিভিউ দেয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। তাই রিভিউ না দিয়ে পারলাম না,,,, মুভি রিভিউঃ "৯৬"  (...